চা বিশ্বের সবচেয়ে জনপ্রিয় পানীয়গুলোর মধ্যে একটি। দৈনন্দিন জীবনে বেশিরভাগ মানুষের দিন শুরু হয় এক কাপ চায়ের উষ্ণ স্পর্শে। গবেষকদের মতে, চায়ের মধ্যে থাকা অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট ও অন্যান্য উপাদান স্বাস্থ্যের জন্য উপকারী হলেও অতিরিক্ত চা পান স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর হতে পারে।
চায়ের উপকারিতা:
বিশেষজ্ঞদের মতে, চা বিভিন্নভাবে শরীরের জন্য উপকারী হতে পারে। চায়ে থাকা পলিফেনল এবং ক্যাটেচিন শরীরের কোষগুলোর ক্ষতি প্রতিরোধে সাহায্য করে। নিয়মিত সবুজ বা কালো চা পান করলে রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে থাকে এবং হৃদরোগের ঝুঁকি কমতে পারে। আদা, পুদিনা বা লেবু চা হজমের সমস্যা দূর করতে সাহায্য করে। চায়ে থাকা এল-থিয়ানিন নামক অ্যামিনো অ্যাসিড মস্তিষ্ককে শিথিল করতে সাহায্য করে, যা মানসিক চাপ কমায়। ক্যাফেইন ও অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট মেটাবলিজম বাড়িয়ে ওজন কমাতে সাহায্য করতে পারে।
চায়ের অপকারিতা:
অতিরিক্ত চা পান কিছু স্বাস্থ্যগত সমস্যার কারণ হতে পারে। চায়ে থাকা ক্যাফেইন অতিরিক্ত গ্রহণ করলে অনিদ্রার সমস্যা হতে পারে। অতিরিক্ত চা পান অম্লতা, গ্যাস্ট্রিক ও বদহজমের কারণ হতে পারে। চায়ের ট্যানিন নামক উপাদান শরীরের আয়রন শোষণ ক্ষমতা কমিয়ে দিতে পারে, যা রক্তস্বল্পতার ঝুঁকি বাড়ায়। দীর্ঘদিন বেশি চা পান করলে ক্যাফেইনের ওপর নির্ভরতা তৈরি হতে পারে, যা মাথাব্যথা ও মেজাজ পরিবর্তনের কারণ হতে পারে।
কতটুকু চা পান করা উচিত?
বিশেষজ্ঞদের মতে, একজন প্রাপ্তবয়স্ক মানুষের জন্য দৈনিক ২-৩ কাপ চা পান করা নিরাপদ এবং স্বাস্থ্যকর। তবে, অতিরিক্ত ক্যাফেইন গ্রহণ এড়াতে ৫ কাপের বেশি চা পান না করাই ভালো।
বিশেষ করে, গর্ভবতী নারী, উচ্চ রক্তচাপ বা গ্যাস্ট্রিকের রোগীদের চা পানের ক্ষেত্রে সতর্ক থাকা উচিত। দুধ-চিনি ছাড়া লাল চা বা গ্রিন টি স্বাস্থ্যের জন্য তুলনামূলক ভালো বিকল্প হতে পারে।
বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ:
মেডিসিন বিশেষজ্ঞ ডা. মাহমুদ হাসান বলেন, “চা পানের অভ্যাস স্বাস্থ্যকর হতে পারে যদি এটি সীমিত মাত্রায় গ্রহণ করা হয়। তবে দুধ-চিনি ছাড়া চা পান করাই বেশি উপকারী।”
শেষকথা:
চা পানের ক্ষেত্রে সচেতনতা জরুরি। অতিরিক্ত গ্রহণ যেমন ক্ষতির কারণ হতে পারে, ঠিক তেমনই সীমিত পরিমাণে সঠিক উপায়ে চা পান শরীরের জন্য উপকারী হতে পারে। তাই সঠিক পরিমাণে চা পান করুন, সুস্থ থাকুন।
(সংবাদটি স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মতামত ও গবেষণা তথ্যের ভিত্তিতে লেখা হয়েছে। ব্যক্তিগত স্বাস্থ্য সমস্যার ক্ষেত্রে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত।)