রাজশাহীর বাগমারায় চায়ের দোকানে ঢুকে এক যুবককে ছুরিকাঘাতে হত্যার পর অভিযুক্ত আমিনুল ইসলাম (২২) দৌড়ে আশ্রয় নেন একটি বাড়িতে। খবর পেয়ে পুলিশ তাঁকে উদ্ধারে চেষ্টা চালালেও শেষ রক্ষা হয়নি। বিক্ষুব্ধ জনতার পিটুনিতে প্রাণ হারান তিনিও।
শুক্রবার (০৪ এপ্রিল) রাতে বাগমারা উপজেলার ঝিকড়া ইউনিয়নের রনশিবাড়ি গ্রামে ঘটে এই মর্মান্তিক ঘটনা। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, ঘটনার আগে বিকেলে মাছ ব্যবসায়ী আবদুর রাজ্জাক (৩৫) কে ছুরিকাঘাতে হত্যা করেন আমিনুল।
নিহত আবদুর রাজ্জাক ও অভিযুক্ত আমিনুল ইসলামের বাড়ি নওগাঁর আত্রাই উপজেলার গোয়ালবাড়ি গ্রামে। যদিও তাঁদের বাড়ি আত্রাইয়ে, ঘটনাটি ঘটে পাশের বাগমারার রনশিবাড়ি গ্রামে। গোয়ালবাড়ি ও রনশিবাড়ি—দুই গ্রামই পাশাপাশি অবস্থিত।
আজ শনিবার সকালে ঘটনাস্থল রনশিবাড়ি ও পাশের গোয়ালবাড়ি গ্রামে গিয়ে স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলেন প্রতিবেদক। গোয়ালবাড়ির বাসিন্দারা জানান, আমিনুল এলাকায় একজন মাদকাসক্ত হিসেবে পরিচিত ছিলেন। মাদকের জন্য প্রায়ই টাকার দাবি করতেন, না দিলে গালিগালাজ ও হুমকি দিতেন।
স্থানীয়রা আরও জানান, গতকাল ছিল রনশিবাড়ি হাটবার। হাটে মাছ বিক্রি করতে গিয়েছিলেন রাজ্জাক। বিকেলে তাঁর কাছে টাকা চান আমিনুল। রাজ্জাক দেড়শ টাকা দিলেও আমিনুল আরও টাকা দাবি করেন। রাজ্জাক তাতে রাজি না হওয়ায় পাশের কামারের দোকান থেকে ছুরি নিয়ে এসে রাজ্জাকের পেটে আঘাত করেন আমিনুল।
রনশিবাড়ি গ্রামের বাসিন্দা আবদুর রশিদ বলেন, ‘এরপর আমার বাড়িতে এসে আশ্রয় নেয় আমিনুল। রাত আটটা পর্যন্ত পুলিশ তাঁকে রক্ষা করার চেষ্টা করে। কিন্তু ক্ষুব্ধ জনতার রোষ থেকে আর বাঁচাতে পারেনি। পুলিশ সদস্যদের ওপর হামলা চালিয়ে আমিনুলকে ছিনিয়ে নেয় লোকজন।’
এ সময় অনেকে মোবাইলে ভিডিও ধারণ করে আমিনুলের স্বীকারোক্তি নেয়। এসব ভিডিও ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়েছে। একটি ভিডিওতে দেখা যায়, জনতা আমিনুলকে ধরে জিজ্ঞেস করছে কেন সে রাজ্জাককে হত্যা করেছে। উত্তরে আমিনুল বলেন, ‘ও আমাকে জুমার নামাজ পড়তে দেয়নি।’
এ কথা শুনে জনতা তাঁকে ধমকাতে থাকে, আর আমিনুল কাঁদতে থাকেন। অন্য এক ভিডিওতে দেখা যায়, ইট দিয়ে তাঁর মাথা থেঁতলে দেওয়া হয়েছে। একপর্যায়ে আমিনুলের মৃত্যু হলে ঘটনাস্থল ত্যাগ করে বিক্ষুব্ধ জনতা।
বাগমারা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা তৌহিদুল ইসলাম জানান, আমিনুলকে হত্যার ঘটনায় অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিদের আসামি করে মামলা দায়ের করা হয়েছে। এ সময় বিক্ষুব্ধ জনতার হামলায় এক উপপরিদর্শক, সহকারী উপপরিদর্শকসহ ছয়জন পুলিশ সদস্য আহত হন।