বিশ্ববাজারে স্বর্ণের দাম নিয়ে কয়েকদিন ধরে ব্যাপক অস্থিরতা দেখা গেলেও মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নতুন শুল্ক নীতির ঘোষণার পর এতে বড় ধরনের পতন ঘটেছে।
ট্রাম্পের পৃথক শুল্ক আরোপের আশঙ্কায় গত সপ্তাহজুড়ে স্বর্ণের দাম রেকর্ড পরিমাণ বৃদ্ধি পায়। এক পর্যায়ে প্রতি আউন্স স্বর্ণের দাম ৩,১৬২ ডলার অতিক্রম করে, যা স্বর্ণবাজারে নতুন মাইলফলক সৃষ্টি করে। কিন্তু ট্রাম্পের আনুষ্ঠানিক ঘোষণা আসার পরপরই স্বর্ণের বাজারে ধস নামে। একদিনের ব্যবধানে প্রতি আউন্স স্বর্ণের দাম ৭২ ডলার কমে ৩,০৯০ ডলারে নেমে যায়।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প তার নির্বাচনী প্রচারণার সময় যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্যিক অংশীদারদের ওপর কঠোর শুল্ক আরোপের প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন। সেই প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী, বুধবার তিনি বেশিরভাগ দেশের ওপর পাল্টা শুল্ক আরোপের ঘোষণা দেন। এতে বিভিন্ন দেশের পণ্যের ওপর সর্বনিম্ন ১০ শতাংশ থেকে সর্বোচ্চ ৫০ শতাংশ পর্যন্ত শুল্ক বসানো হয়েছে।
বিশেষভাবে চীনের পণ্য আমদানির ওপর ৩৪ শতাংশ, বাংলাদেশের ওপর ৩৭ শতাংশ, ভারতের ওপর ২৬ শতাংশ, জাপানের ওপর ২৪ শতাংশ এবং ইউরোপীয় ইউনিয়নের ওপর ২০ শতাংশ শুল্ক আরোপ করা হয়েছে।
ট্রাম্পের ঘোষণা অনুযায়ী, এই শুল্ক ব্যবস্থা দুই ধাপে কার্যকর হবে। প্রথম ধাপে, ১০ শতাংশ হারে শুল্ক ৫ এপ্রিল থেকে কার্যকর হবে। এরপর দ্বিতীয় ধাপে, উচ্চহারে শুল্ক আরোপ (যেমন বাংলাদেশের জন্য ৩৭ শতাংশ) ৯ এপ্রিল থেকে কার্যকর হবে।
ট্রাম্পের এই নীতির কারণে বাজারে উত্তেজনা তৈরি হয় এবং স্বর্ণের দাম এক সপ্তাহের মধ্যে দ্রুত বাড়তে থাকে। গত সপ্তাহে প্রতি আউন্স স্বর্ণের দাম ৩,০৩৭ ডলার থেকে বেড়ে সর্বোচ্চ ৩,১৬২ দশমিক ৬০ ডলারে পৌঁছে যায়। কিন্তু শুল্ক ঘোষণার পর পরই দরপতন শুরু হয় এবং বৃহস্পতিবার বিকেলে তা নেমে আসে ৩,০৯০ ডলারে।
বিশ্লেষকরা বলছেন, শুল্ক আরোপের ফলে বৈশ্বিক বাণিজ্যে অস্থিরতা তৈরি হতে পারে, যা বিনিয়োগকারীদের সিদ্ধান্তে প্রভাব ফেলছে। এ কারণে স্বর্ণের বাজারে বড় ধরনের ওঠানামা দেখা যাচ্ছে। পরবর্তী সময়ে স্বর্ণের দামের গতি-প্রকৃতি নির্ভর করবে বিশ্ববাজারের প্রতিক্রিয়া এবং যুক্তরাষ্ট্রের ভবিষ্যৎ বাণিজ্য নীতির ওপর।