যুক্তরাষ্ট্রের ১৮৫টি দেশ ও অঞ্চলের পণ্যে শুল্ক বৃদ্ধির ঘোষণার পর এশিয়ার শেয়ারবাজারে ব্যাপক ধস নেমেছে। এতে বৈশ্বিক বাণিজ্য ও সাপ্লাই চেনে বড় ধরনের বিপর্যয়ের আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।
বিশ্লেষকরা বলছেন, প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের এই শুল্কারোপের ফলে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হবে এশিয়ার দেশগুলো। ওয়াশিংটনের গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্যিক অংশীদার চীন, জাপান, দক্ষিণ কোরিয়া ও ভিয়েতনামসহ একাধিক দেশের ওপর নতুন শুল্কারোপের প্রভাব তাদের অর্থনীতিতে ব্যাপক চাপ সৃষ্টি করেছে। এরই মধ্যে এশিয়ার প্রধান শেয়ারবাজারগুলোতে ব্যাপক দরপতন দেখা গেছে।
জাপানের নিক্কেই সূচক ৪.৬ শতাংশ কমে আট মাসের মধ্যে সর্বনিম্ন অবস্থানে নেমে গেছে। দক্ষিণ কোরিয়ার বেঞ্চমার্ক কোরিয়া কম্পোজিট স্টক প্রাইস ইনডেক্স (কসপি) ৩৬.৫৭ পয়েন্ট কমে গেছে। চীনের শেয়ারবাজারেও উল্লেখযোগ্য পতন হয়েছে, পাশাপাশি দেশটির মুদ্রা ইউয়ান সাত সপ্তাহের মধ্যে সর্বনিম্ন অবস্থানে পৌঁছেছে।
অর্থনীতিবিদ টিম হারকোর্ট সতর্ক করে বলেছেন, এই বাণিজ্য যুদ্ধে কোনো পক্ষই জয়ী হবে না। তার ভাষায়, “শুল্ক আরোপ করা নিজের পায়ে কুড়াল মারার মতো। শেষ পর্যন্ত এটি ট্রাম্পের জনপ্রিয়তায় নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে এবং যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনীতিরও ক্ষতি করবে।” তবে তিনি আশা প্রকাশ করেন, এশিয়ার দেশগুলো এই সংকট মোকাবিলায় কৌশলী পদক্ষেপ নেবে এবং আসিয়ানসহ উত্তর-পূর্ব এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে বাণিজ্যিক সম্পর্ক আরও জোরদার হবে।
বিশ্ব অর্থনীতিতে এই শুল্ক যুদ্ধ কী ধরনের প্রভাব ফেলবে, তা এখনো অনিশ্চিত। তবে বিশ্লেষকরা মনে করছেন, এশিয়ার বাজারগুলোর এই ধস স্বল্প মেয়াদে বিনিয়োগকারীদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়ালেও দীর্ঘমেয়াদে তারা নতুন কৌশলে মানিয়ে নিতে সক্ষম হবে।