নেত্রকোণার মোহনগঞ্জে পারিবারিক কলহের জেরে মো: শান্ত মিয়া (৫০) নামের এক ব্যক্তির কান কামড়ে বিচ্ছিন্ন করে ফেলেছেন তার স্ত্রী। তাৎক্ষণিক তাকে উদ্ধার করে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে গেলে তার কানের বিচ্ছিন্ন অংশ আর জোড়া লাগাতে পারেননি চিকিৎসকরা। পরে তাকে সেখান থেকে ফিরিয়ে এনে মোহনগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (০৬ জুন) দুপুরে মোহনগঞ্জ পৌরশহরের উত্তর দৌলতপুর এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। আহত শান্ত মিয়া মোহনগঞ্জ পৌরশহরের উত্তর দৌলতপুর এলাকার বাসিন্দা। তার স্ত্রীর নাম রাহেলা বেগম (৪২)।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, শান্ত মিয়া ও তার স্ত্রীর মধ্যে বিভিন্ন বিষয় নিয়ে মাঝেমধ্যেই ঝগড়া লেগে থাকে। বৃহস্পতিবার (০৬জুন) বিকেলে তুচ্ছ বিষয় নিয়ে শান্ত মিয়া-তার স্ত্রীর ঝগড়া লাগে। একপর্যায়ে স্ত্রী রাহেলা বেগম ক্ষিপ্ত হয়ে তার স্বামীর কানে জোরে কামড় দেন। এতে শান্ত মিয়ার বাঁ কান প্রায় পুরোটাই বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়।
পরে স্থানীয়রা তাঁকে উদ্ধার করে মোহনগঞ্জ উপজেলার স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে সেখানের কর্তব্যরত চিকিৎসক প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠান। এ সময় কানের বিচ্ছিন্ন অংশটুকুও নিয়ে যাওয়া হয়।
তবে ওই হাসপাতালের চিকিৎসকরা অনেক চেষ্টা করেও তার কানের অংশ স্থাপন করতে পারেননি। সর্বশেষ ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল থেকে চিকিৎসা শেষে শনিবার (০৮ জুন) শান্ত মিয়াকে আবার মোহনগঞ্জ স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়।
ভুক্তভোগী শান্ত মিয়া বলেন, আমার স্ত্রী পুরোটা কান কামড়ে ছিঁড়ে ফেলেছে। ময়মনসিংহ মেডিকেলে গিয়েও আমার কার আর লাগানো যায়নি। প্রায় ৩০ বছরের সংসার জীবনে সব সময় স্ত্রীর সঙ্গে ঝগড়া হতো।
এই ঘটনার কিছুদিন আগে বড় ছেলে আমাকে না জানিয়ে বিয়ে করে ফেলেছে।
কষ্ট করে আমি ছেলেকে পড়াশোনা করিয়েছি তাই তার ভালমন্দ জানার অধিকার আমার আছে। এসব জিজ্ঞাসা করতে গেলে আমার স্ত্রী আর বড় ছেলে মিলে আমাকে বাড়ি থেকে বের করে দিতে চাইছে। এখনো থানায় অভিযোগ করিনি। একটু সুস্থ হই পরে যা-যা করা দরকার সব করব।
নেত্রকোণার মোহনগঞ্জে কামড় দিয়ে স্বামীর কান ছিঁড়ে নিলেন স্ত্রী বিষয়টি নিশ্চিত করে মোহনগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো: দেলোয়ার হোসেন বলেন, এ ঘটনায় কেউ এখনো থানায় কেউ অভিযোগ দেয়নি। অভিযোগ পেলে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।