বগুড়ায় বৈষম্যবিরোধী ছাত্র-জনতার আন্দোলনে গুলিতে নিহত ষষ্ঠ শ্রেণির ছাত্র শহীদ জুনাইদ আহম্মেদ রাতুলের পরিবারে ঈদের কোনো আনন্দ নেই। বুকভরা কষ্ট আর চোখভরা অশ্রু নিয়ে কাটছে বাবা-মায়ের দিন। ঈদের আগে ছেলের স্মৃতি যেন আরও বেশি তাড়িয়ে বেড়াচ্ছে তাদের।
রাতুলের মা রোকেয়া বেগম কাঁদতে কাঁদতে বলেন, ‘প্রতি বছর ঈদের আগে রাতুল নিজের জন্য নতুন পোশাক কিনত, আমাদেরও জোর করে কিনতে বাধ্য করত। বাবার জন্য পাঞ্জাবি আর আমার জন্য শাড়ি বা থ্রি-পিস নেওয়া ছিল তার আনন্দ। এবার আর সেই রাতুল নেই, নেই ঈদের আনন্দও।’
উল্লেখ্য, বগুড়ায় বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে শহীদদের মধ্যে সবচেয়ে কনিষ্ঠ ছিলেন রাতুল। শহরের সুলতানগঞ্জপাড়া এলাকার বাসিন্দা মুদি দোকানি জিয়াউর রহমানের দুই সন্তানের মধ্যে ছোট ছিল সে। স্থানীয় উপশহর পথ পাবলিক স্কুলের ষষ্ঠ শ্রেণির ছাত্র ছিল রাতুল।
২০২৪ সালের ৫ আগস্ট বাড়ি থেকে কাউকে কিছু না জানিয়ে আন্দোলনে যোগ দেয় সে। সেখানেই পুলিশের গুলিতে আহত হয়। শরীরে ও চোখে ঢুকে যায় প্রায় সাতশত শর্টগানের গুলি। প্রথমে বগুড়া শহীদ জিয়া মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হলেও, অবস্থার অবনতি হলে পাঠানো হয় ঢাকার ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব নিউরো সায়েন্সেস হাসপাতালে। সেখানে ৪৯ দিন মৃত্যুর সঙ্গে লড়াই করে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করে রাতুল।
এবারের ঈদে পরিবারের কেউই নতুন পোশাক কেনেননি। ছেলের পছন্দের মেরুন রঙের পাঞ্জাবি, একই রঙের টি-শার্ট আর অনলাইনে কেনা জুতা— সবই রয়ে গেল শুধুই স্মৃতিতে। শূন্যতা আর বুকফাটা কষ্ট নিয়ে ঈদ কাটাতে হচ্ছে পরিবারটিকে।
রাতুলের বাবা জিয়াউর রহমান বলেন, ‘গত ঈদেও আমরা আনন্দ করেছি, হাসিখুশি ছিল পরিবার। এবার সব যেন ফাঁকা হয়ে গেছে। ছেলে নেই, ঈদের আনন্দও নেই।’
শুধু একটাই চাওয়া এখন রাতুলের পরিবার ও স্বজনদের— ছেলে হত্যার ন্যায়বিচার। চোখের জলে বুক ভাসিয়ে তারা প্রহর গুনছেন ন্যায়ের আশায়।