বাংলাদেশের খাদ্য সংস্কৃতির অন্যতম আকর্ষণীয় উপাদান হলো বগুড়ার দই। স্বাদ, গুণগত মান ও বিশেষ প্রস্তুতপ্রণালীর কারণে এ দই দেশের গণ্ডি পেরিয়ে আন্তর্জাতিক অঙ্গনেও জনপ্রিয়তা লাভ করেছে।

বগুড়ার দইয়ের ইতিহাস শত বছরের পুরোনো। ধারণা করা হয়, ব্রিটিশ আমল থেকেই এটি জনপ্রিয় হতে শুরু করে। প্রাচীনকাল থেকে চলে আসা এই দই প্রস্তুত প্রণালী এখনো অপরিবর্তিত রয়েছে, যা এর স্বাদ ও গুণমান অটুট রেখেছে।
বগুড়ার দই সাধারণত দুই ধরনের হয়ে থাকে—সাদা দই ও মিষ্টি দই। তবে এর সবচেয়ে জনপ্রিয় রূপ হলো মিষ্টি দই, যা ঘন, মোলায়েম ও সুগন্ধযুক্ত। এর মিষ্টত্ব ও টক-মিষ্টি স্বাদ একে অন্যান্য অঞ্চলের দই থেকে আলাদা করেছে।
বগুড়ার দই তৈরি হয় খাঁটি গরুর দুধ থেকে। প্রথমে দুধ জ্বাল দিয়ে ঘন করা হয়, তারপর নির্দিষ্ট মাত্রার চিনি বা গুঁড় মেশানো হয়। এরপর নির্দিষ্ট তাপমাত্রায় রেখে এটি জমানো হয়, যাতে স্বাদ ও ঘনত্ব ঠিক থাকে। অনেকে এটি মাটির হাঁড়িতে জমিয়ে থাকেন, যা দইয়ের স্বাদে বিশেষ ভূমিকা রাখে।


ঈদ, পূজা, বিয়ে কিংবা যেকোনো উৎসবে বগুড়ার দইয়ের চাহিদা থাকে তুঙ্গে। দেশের প্রায় সব বড় শহরের মিষ্টির দোকানে এই দই পাওয়া যায়। অনেকে বগুড়া ভ্রমণের সময় বিশেষভাবে এই দই নিয়ে আসেন, যা এটি আরও জনপ্রিয় করেছে।
শুধু দেশেই নয়, প্রবাসী বাংলাদেশিদের মাঝেও বগুড়ার দই অত্যন্ত সমাদৃত। অনেক সময় বিদেশেও এটি পাঠানো হয়, যা এর খ্যাতিকে বিশ্বদরবারে পৌঁছে দিয়েছে।


বগুড়ার দই শুধু একটি খাবার নয়, এটি বগুড়ার সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যের অংশ। এর স্বাদ ও গুণমান ধরে রাখার জন্য নিরলস পরিশ্রম করছেন স্থানীয় মিষ্টান্ন ব্যবসায়ীরা। শত বছরের এই ঐতিহ্য আগামীতেও তার জনপ্রিয়তা বজায় রাখবে বলে আশা করা যায়।