দিনাজপুরের পার্বতীপুর উপজেলার ৫২৫ মেগাওয়াট ক্ষমতাসম্পন্ন বড়পুকুরিয়া তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রের উৎপাদন ব্যবস্থা এখনো চালু হয়নি। প্রায় ২৪ ঘণ্টা ধরে পুরোপুরিভাবে বন্ধ রয়েছে কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রটির ৩টি ইউনিটের উৎপাদন। সোমবার (০৯ সেপ্টেম্বর) সকাল ৯টার দিকে যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে ৩য় ইউনিটের উৎপাদন একেবারে বন্ধ হয়ে যায়। এর আগে থেকেই অন্য ২ ইউনিটের বিদ্যুৎ উৎপাদন বন্ধ ছিলো।
বিদ্যুৎকেন্দ্রের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, অয়েল পাম্প (টারবাইন জেনারেল) নষ্ট হয়ে যাওয়ার কারণে তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রের ৩য় ইউনিটটি ফের বন্ধ হয়ে যায়। এর মাত্র ৪ দিন আগে ২৭৫ মেগাওয়াট ক্ষমতাসম্পন্ন এই ইউনিটে বিদ্যুৎ উৎপাদন শুরু হয়েছিলো। এই ইউনিট চালু রাখার জন্য দৈনিক প্রায় ২ হাজার ৩০০ টন কয়লা প্রয়োজন হয়। দীর্ঘ ৩৬ দিন পর ইউনিটটিতে গত ০৬ সেপ্টেম্বর যান্ত্রিক সমস্যা সমাধান করে বিদ্যুৎ উৎপাদন শুরু করা হয়েছিলো।
সেই সাথে ওই দিন রাত ৯টায় তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রের ১২৫ মেগাওয়াট ক্ষমতাসম্পন্ন ১ নং ইউনিটটি মেরামতের জন্য ১ সপ্তাহের জন্য বন্ধ করে দেওয়া হয়। ১ নং ইউনিটটি ১২৫ মেগাওয়াট ক্ষমতাসম্পন্ন হলেও উৎপাদিত হতো মাত্র ৬০ থেকে ৬৫ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ। আর ২ নং ইউনিট ১২৫ মেগাওয়াট ক্ষমসম্পন্ন হলেও ৬৫ থেকে ৭০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদিত হতো।
তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রটির ৩টি ইউনিট বিদ্যুৎ উৎপাদনের জন্য প্রতিদিন প্রায় ৫ হাজার ২০০ টন কয়লা লাগে। বর্তমানে বড়পুকুরিয়া কয়লাখনির কোল ইয়ার্ডে প্রায় ২ লক্ষ টন কয়লা মজুত রয়েছে। ৩টি ইউনিট কখনই একসাথে চালানো হয়নি। এ তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রটি সম্পূর্ণ নির্ভর করে বড়পুকুরিয়া কয়লাখনির সরবরাহ করা কয়লার ওপর। এই ১ম বড়পুকুরিয়া তাপবিদ্যুৎকেন্দ্রটির সবকয়টি ইউনিট বন্ধ হয়েছে। এর ফলে উত্তরাঞ্চলের ৭টি জেলা ব্যাপকভাবে লোডশেডিংয়ের কবলে পড়েছে।
বড়পুকুরিয়া তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রটির প্রধান প্রকৌশলী মো: আবু বক্কর ছিদ্দিক জানান, সোমবার সকালে রিজার্ভে থাকা অপর অয়েল পাম্প (টারবাইন জেনারেল) নষ্ট হয়ে যাওয়ায় ৩য় ইউনিটি বন্ধ হয়ে যায়। কিন্তু চীনের ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে একাধিক চিঠি পাঠালেও কোনো সাড়া পাওয়া যায়নি। চীন থেকে অয়েল পাম্প এলেই ইউনিটটি ফের চালু করা সম্ভব হবে।
২০০৬ সালে ১ হাজার ৬৩৪ কোটি টাকা ব্যয়ে চীনা কারিগরিদের সহায়তায় দিনাজপুরের পার্বতীপুর উপজেলার বড়পুকুরিয়া কয়লাখনির পাশে তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রটি স্থাপন করা হয়। প্রত্যাশা ছিলো এর মাধ্যমে বাংলাদেশের উত্তরাঞ্চলের ক্রমবর্ধমান বিদ্যুৎ চাহিদা মিটবে। সেই সাথে শিল্পকলকারখানা ও কৃষি খাতে বিদ্যুতের সরবরাহ উন্নীত হবে।