ঈদের দিন, সকালবেলা। আনন্দে মেতে উঠেছিল বগুড়ার শেরপুর উপজেলার সুঘাট ইউনিয়নের “মিনি জাফলং” নামক ভাইরাল নদীপাড়। দূর-দূরান্ত থেকে ছুটে আসা মানুষদের ভিড়ে ছিলো প্রাণচাঞ্চল্য। কিন্তু সে আনন্দ মুহূর্তেই বিষাদে পরিণত হলো ১৩ বছরের শিশু আবু সাদাত ইকবালের মৃত্যুর মধ্য দিয়ে।
সাদাত ইকবাল বগুড়ার ধুনট উপজেলার বিল চাপরি গ্রামের ইকবাল হোসেনের ছেলে এবং পল্লী উন্নয়ন একাডেমী ল্যাবরেটরি স্কুলের ষষ্ঠ শ্রেণির ছাত্র এবং তার বাবা একই স্কুলে পদার্থবিজ্ঞানের শিক্ষক হিসেবে কর্মরত।
গত কয়েক দিন ধরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে শেরপুরের বাঙালি নদীর জোড়গাছা ব্রিজসংলগ্ন অঞ্চলকে “মিনি জাফলং” বলে পরিচিতি দেওয়ার ট্রেন্ড। যেখানে স্বচ্ছ পানি, আর নীল আকাশের প্রতিবিম্বে মুগ্ধ হয়েছেন অনেকে। তবে এই জায়গার সৌন্দর্য সত্যি হলেও পর্যটন ব্যবস্থাপনার নূন্যতম অবকাঠামো নেই। নেই কোনো নিরাপত্তাকর্মী, নেই ঝুঁকিপূর্ণ স্থান চিহ্নিতকরণ।
সাদাত ইকবাল ঈদের ছুটিতে নানাবাড়িতে বেড়াতে এসে ‘মিনি জাফলং’-এ গোসল করতে নামে। স্থানীয় শিশুরা তাকে নিয়ে যায়। সে সাঁতার জানতো না। নদীর একটি অংশ গভীর এবং স্রোতপ্রবণ হলেও সেখানে কোনও সতর্কতামূলক চিহ্ন ছিল না।
ফায়ার সার্ভিসের ওয়্যারহাউজ ইন্সপেক্টর বখতিয়ার উদ্দিন জানান, “খবর পেয়ে সকাল সাড়ে আটটায় আমরা ঘটনাস্থলের উদ্দেশ্যে রওনা করি। সেখানে গিয়ে জানতে পারি বাচ্চাটিকে উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়েছে।”
এ বিষয়ে কথা বললে শেরপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আশিক খান বলেন, “এটি কোনও আনুষ্ঠানিক পর্যটন কেন্দ্র ছিলো না, কিন্তু আমরা বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে দেখছি। উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে ঝুঁকিপূর্ণ স্থান চিহ্নিতকরণসহ প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।”