বরগুনা জেলায় শিশুদের মধ্যে হাম ও রুবেলার সংক্রমণ বাড়তে শুরু করেছে। চলতি বছরে এখন পর্যন্ত ১৮ জন শিশু হামে এবং একজন রুবেলায় আক্রান্ত হয়েছে। একই সঙ্গে হামের উপসর্গ থাকায় আরও ৮৪ জন শিশুকে সন্দেহভাজন হিসেবে শনাক্ত করা হয়েছে, যাদের মধ্যে ৬২ জনের নমুনা সংগ্রহ করে পরীক্ষার জন্য ঢাকায় পাঠানো হয়েছে।
মঙ্গলবার (৩১ মার্চ) ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট বরগুনা জেনারেল হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. মো. রেজওয়ানুর আলম এসব তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, আক্রান্ত শিশুদের চিকিৎসা নিশ্চিত করতে বরগুনা জেনারেল হাসপাতালে ৩০ শয্যার একটি বিশেষ আইসোলেশন ওয়ার্ড চালু করা হয়েছে। বর্তমানে সেখানে ১৮ জন শিশু চিকিৎসাধীন রয়েছে। গত ২৪ ঘণ্টায় হামের লক্ষণ নিয়ে নতুন আরও আট শিশু হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে।
জেলা স্বাস্থ্য বিভাগ জানিয়েছে, সদর হাসপাতালের পাশাপাশি আমতলী, পাথরঘাটা ও বামনা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে দুটি করে এবং বেতাগী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে একটি শয্যা প্রস্তুত রাখা হয়েছে; তবে এখন পর্যন্ত বরগুনা সদর উপজেলার বাইরে অন্য কোনো এলাকায় আক্রান্ত রোগী শনাক্ত হয়নি।
বরগুনা জেনারেল হাসপাতালের মেডিসিন বিভাগের জুনিয়র কনসালট্যান্ট ডা. আশিকুর রহমান জানান, হাম অত্যন্ত সংক্রামক একটি রোগ। একজন আক্রান্ত রোগী থেকে ১৬ থেকে ১৮ জন পর্যন্ত সংক্রমিত হতে পারেন। সাধারণত হাঁচি, কাশি এবং সরাসরি সংস্পর্শের মাধ্যমে এই রোগ দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে।
তিনি বলেন, শিশুর উচ্চ জ্বর, চোখ লাল হওয়া এবং নাক দিয়ে পানি পড়ার মতো লক্ষণ দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে। এছাড়া জ্বর হলে শিশুকে আলাদা রাখা, জনসমাগম এড়িয়ে চলা এবং মাস্ক ব্যবহার নিশ্চিত করার পরামর্শ দেন তিনি।
হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. মো. রেজওয়ানুর আলম বলেন, সংক্রমণ শুরুর পরপরই দুটি পৃথক আইসোলেশন ওয়ার্ড চালু করা হয়েছে। তবে আশার বিষয় হলো, এখন পর্যন্ত চিকিৎসাধীন কোনো শিশুর মৃত্যুর ঘটনা ঘটেনি।
তিনি অভিভাবকদের উদ্দেশে বলেন, শিশুর জ্বর, সর্দি বা কাশি হলে অবহেলা না করে দ্রুত হাসপাতালে নিয়ে আসতে হবে। সঠিক চিকিৎসা ও আইসোলেশন নিশ্চিত করা গেলে এই রোগ নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব।


