দেশে আগামী দুই মাস পেট্রল ও অকটেন সরবরাহে কোনো সংকট হবে না বলে জানিয়েছে জ্বালানি বিভাগ। একই সঙ্গে জ্বালানি তেলের পর্যাপ্ত মজুত রয়েছে বলেও জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।
বৃহস্পতিবার (৯ এপ্রিল) সচিবালয়ে জ্বালানি পরিস্থিতি নিয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান জ্বালানি বিভাগের যুগ্ম সচিব মনির হোসেন চৌধুরী।
তিনি বলেন, বর্তমানে দেশে জ্বালানি তেলের কোনো ঘাটতি নেই। আগামী দুই মাস পেট্রল ও অকটেন নিয়ে সংকট হওয়ার আশঙ্কাও নেই। দেশে বর্তমানে ১ লাখ ৪৩ হাজার মেট্রিক টন ডিজেল, ৯ হাজার ৫৬৯ মেট্রিক টন অকটেন এবং ১৬ হাজার ৮১২ মেট্রিক টন পেট্রল মজুত রয়েছে।
জ্বালানি বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, অবৈধভাবে জ্বালানি মজুতের বিরুদ্ধে দেশজুড়ে অভিযান চালানো হয়েছে। এ পর্যন্ত ৭ হাজার ৩৪২টি অভিযানে অবৈধভাবে মজুত করা ৪ লাখ ৬৯ হাজার ৪২ লিটার জ্বালানি তেল উদ্ধার করা হয়েছে। মনির হোসেন চৌধুরী বলেন, অতিরিক্ত কেনা ও মজুতের প্রবণতা না কমলে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখা কঠিন হয়ে পড়তে পারে।
সংবাদ সম্মেলনে তিনি আরও জানান, জ্বালানি তেলে বর্তমানে সরকার বড় অঙ্কের ভর্তুকি দিচ্ছে। প্রতি মাসে দুই হাজার থেকে আড়াই হাজার কোটি টাকা ভর্তুকি দিতে হচ্ছে। বর্তমানে প্রতি লিটার ডিজেল ১০০ টাকায় বিক্রি হলেও প্রকৃত দাম হওয়া উচিত ১৫৫ টাকা। অর্থাৎ প্রতি লিটার ডিজেলে সরকার ৫৫ টাকা ভর্তুকি দিচ্ছে।
ফুয়েল পাস চালুর বিষয়ে তিনি বলেন, রাজধানীর আসাদ গেটে সোনার বাংলা ফিলিং স্টেশন এবং ট্রাস্ট ফিলিং স্টেশনে পরীক্ষামূলকভাবে ফুয়েল পাসের মাধ্যমে জ্বালানি তেল বিক্রি শুরু হয়েছে। পর্যায়ক্রমে সারা দেশে এই ব্যবস্থা চালু করা হবে।
এ সময় আন্তর্জাতিক পরিস্থিতির প্রভাবের কথাও তুলে ধরেন তিনি। যুদ্ধ স্থায়ীভাবে বন্ধ হলেও দীর্ঘমেয়াদে এর প্রভাব দেশের অর্থনীতিতে থাকবে বলে জানান মনির হোসেন চৌধুরী। তিনি বলেন, শুধু বাংলাদেশ নয়, বিশ্বব্যাপী জ্বালানি বাজারেও যুদ্ধের প্রভাব পড়ছে। এপ্রিলে সরকার জ্বালানি তেলের দাম বাড়ায়নি। পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে সব দিক বিবেচনা করে পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।


