সরকারি দলের চিফ হুইপ নুরুল ইসলাম মণি বলেছেন, সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার সময় দেশের মানুষ ভালো থাকায়ই বিএনপিকে দীর্ঘ সময় রাজনৈতিক ভোগান্তি পোহাতে হয়েছে।
শুক্রবার (৩ এপ্রিল) রাজধানীতে স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস উপলক্ষে এক আলোচনা সভায় তিনি এসব কথা বলেন। সাংস্কৃতিক দলের আয়োজনে অনুষ্ঠিত ওই অনুষ্ঠানে দেশের রাজনৈতিক ইতিহাস, উন্নয়ন ও বর্তমান রাজনীতি নিয়ে বক্তব্য দেন তিনি।
চিফ হুইপ বলেন, জিয়াউর রহমান নানা সংকট থেকে দেশকে বের করে আনতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছিলেন। কিন্তু তার ফলাফল হিসেবে তাকে হত্যার শিকার হতে হয়েছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
তিনি বলেন, “বেগম জিয়ার আমলে দেশের মানুষ কেন ভালো থাকলো, দেশে কেন উন্নতি হলো, এসব কারণেই আমরা ১৭ বছর ভুগেছি।”
জিয়াউর রহমানের হত্যাকাণ্ড প্রসঙ্গে নুরুল ইসলাম মণি বলেন, দেশের মানুষ খাদ্য পাচ্ছিল, উন্নয়ন হচ্ছিল এবং স্বাধীনতার সুফল ভোগ করছিল—এটাই ছিল তাকে হত্যার প্রধান কারণ।
তিনি আরও বলেন, “মানুষ স্বাধীনতার সুফল ভোগ করবে—এটা অনেকে চায়নি। দেশ ভালো না হোক, সেই চিন্তা থেকেই তাকে হত্যা করা হয়েছিল।”
তিনি আরও উল্লেখ করেন, সংসদে দাঁড়িয়ে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা জিয়া উদ্যানে জিয়াউর রহমানের মরদেহ নেই বলেও মন্তব্য করেছিলেন বলে দাবি করেন তিনি।
চিফ হুইপ আরও বলেন, শেখ মুজিবুর রহমান স্বাধীনতার সময় বিবিসির সাংবাদিকের দেওয়া নিহতের সংখ্যা বাড়িয়ে বলেছিলেন—এমন অভিযোগও তোলেন তিনি।
তিনি দাবি করেন, “সিরাজ তিন লাখ বলেছিলেন, সেটিকে তিন মিলিয়ন বানানো হয়েছিল”—যদিও এ বক্তব্যের পক্ষে তিনি কোনো সূত্র উল্লেখ করেননি।
জিয়াউর রহমানের শাসনামলের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, বহুদলীয় রাজনীতি চালু করা, খাল খনন কর্মসূচি নেওয়া এবং খাদ্য সংকট দূর করার মতো পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছিল। তিনি বলেন, “তিন বছরের মধ্যেই খাদ্য সংকট দূর হয়েছিল।”
বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান সম্পর্কে নুরুল ইসলাম মণি বলেন, তিনি উন্নয়নমুখী কর্মসূচি নিয়ে কাজ করছেন। বৃক্ষরোপণসহ বিভিন্ন কর্মসূচির কথা উল্লেখ করেন তিনি।
তারেক রহমান সম্পর্কে তিনি বলেন, “তিনি টাকা চুরি করতে আসেননি, দেশ গড়তে এসেছেন।”
একই সঙ্গে তিনি অভিযোগ করেন, আওয়ামী লীগ সরকারের সময় ২৭ লাখ কোটি টাকা পাচার হয়েছে বলেও দাবি করেন তিনি। তবে এ দাবির পক্ষে কোনো নির্দিষ্ট তথ্য উপস্থাপন করেননি।
প্রধানমন্ত্রীর ব্যক্তিগত জীবনযাপন নিয়েও মন্তব্য করেন চিফ হুইপ। তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী বিদ্যুৎ সাশ্রয় করেন, প্রয়োজন ছাড়া শীতাতপ নিয়ন্ত্রণ যন্ত্র ব্যবহার করেন না এবং সরল জীবনযাপন করেন।
তিনি আরও বলেন, ইমাম-মুয়াজ্জিনদের বেতনের ব্যবস্থাও করা হয়েছে এবং বিরোধী দলের নেতার বাসায় গিয়ে সাক্ষাতের নজির স্থাপন করা হয়েছে।
তারেক রহমানের কাজের ধরণ নিয়ে তিনি বলেন, “সকাল ৯টার আগেই অফিসে আসেন। গভীর রাতেও তাকে পাওয়া যায়। তিনি দেশ নিয়ে স্বপ্ন দেখেন।”


