অন্বেষণ ডেস্ক : সদ্য সমাপ্ত পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচন শেষে বিজেপির নিরঙ্কুশ জয়ের পর ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে অভিনন্দন জানিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। মঙ্গলবার হোয়াইট হাউসের মুখপাত্র কুশ দেশাই নিশ্চিত করেছেন যে, এই ঐতিহাসিক ও নিষ্পত্তিমূলক নির্বাচনী বিজয়ে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প তার শুভেচ্ছা বার্তা পাঠিয়েছেন।
ভারতের নির্বাচন কমিশনের প্রকাশিত চূড়ান্ত তথ্য অনুযায়ী, ২৯৪ আসনের রাজ্য বিধানসভায় বিজেপি একাই ২০৬টি আসনে জয়লাভ করেছে। অন্যদিকে, ফালতা কেন্দ্রে ভোট স্থগিত থাকায় সরকার গঠনের জন্য প্রয়োজনীয় কার্যকর সংখ্যাগরিষ্ঠতার সীমা ছিল ১৪৭টি আসন। ফলে বিজেপি খুব সহজেই সেই লক্ষ্যমাত্রা অতিক্রম করে ফেলেছে।
উল্লেখযোগ্য যে, সোমবার ফলাফল ঘোষণার পর দেখা যায়, দীর্ঘদিনের ক্ষমতাসীন তৃণমূল কংগ্রেস মাত্র ৮০টি আসনে সীমাবদ্ধ রয়েছে। এছাড়া ভারতীয় জাতীয় কংগ্রেস এবং আম জনতা উন্নয়ন পার্টি দুটি করে আসন নিজেদের দখলে রেখেছে। পাশাপাশি সিপিআইএম এবং অল ইন্ডিয়া সেক্যুলার ফ্রন্ট একটি করে আসন পেয়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে, বিজেপির এই বিশাল জয়ের পেছনে দলের সুনির্দিষ্ট নির্বাচনী কৌশল এবং রাজ্যে ক্ষমতাসীনদের বিরুদ্ধে জমা হওয়া দীর্ঘদিনের ক্ষোভ বড় ভূমিকা পালন করেছে। এবার বিজেপি অত্যন্ত সফলভাবে তৃণমূলের দেওয়া ‘বহিরাগত’ তকমা ঝেড়ে ফেলতে সক্ষম হয়েছে। পাশাপাশি তারা অবৈধ অভিবাসীদের ইস্যুটিকেও কার্যকরভাবে মাঠে কাজে লাগিয়েছে।
দলটি এবারের প্রচারণায় ‘জয় মা কালী’ ও ‘জয় মা দুর্গা’র মতো স্থানীয় আবেদনসম্পন্ন স্লোগান ব্যাপকভাবে ব্যবহার করেছে। একইসঙ্গে বুথভিত্তিক সংগঠনের ওপর সর্বোচ্চ জোর দেওয়া হয়েছিল। তবে সবচেয়ে লক্ষণীয় বিষয় হলো, এবারের নির্বাচনী প্রচারণায় মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে ব্যক্তিগতভাবে আক্রমণ করার কোনো প্রবণতা বিজেপির শীর্ষ নেতাদের মাঝে ছিল না।
গত ৪ মে এই ঐতিহাসিক নির্বাচনের ফলাফল আনুষ্ঠানিকভাবে সামনে আসে। রাজ্যটি মূলত জনসংঘের প্রতিষ্ঠাতা শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের জন্মভূমি হিসেবে পরিচিত। সোমবার নয়াদিল্লিতে দলীয় সদর দপ্তরে দেওয়া এক বিশেষ ভাষণে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি নিজেও অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে এই বিষয়টি উল্লেখ করে আনন্দ প্রকাশ করেন।
অন্যদিকে, চরম পরাজয়কে একটি ‘ষড়যন্ত্র’ আখ্যা দিয়ে মুখ্যমন্ত্রীর পদ থেকে ইস্তফা দিতে সরাসরি অস্বীকার করেছেন তৃণমূল প্রধান মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তবে ভারতের সংবিধানের ১৬৪ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, কোনো মুখ্যমন্ত্রী কেবল তখনই নিজের পদে বহাল থাকতে পারেন যখন তিনি বিধানসভায় সংখ্যাগরিষ্ঠের আস্থা ভোগ করেন।
ফলে বিধানসভায় নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা হারানোর পর মমতার বর্তমান সরকার সাংবিধানিকভাবে আর কোনোভাবেই টেকসই নয় বলে আইন বিশেষজ্ঞরা জানিয়েছেন। এ রকম একটি জটিল রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে সরকার গঠন এবং নতুন মুখ্যমন্ত্রী বাছাইয়ের দিকে এখন গভীর মনোযোগ দিচ্ছে বিজয়ী দল বিজেপি।
পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভায় সদ্য নির্বাচিতদের মধ্যে বিরোধীদলীয় নেতা সুভেন্দু অধিকারী পরবর্তী মুখ্যমন্ত্রী পদে সবচেয়ে বেশি এগিয়ে আছেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। উল্লেখ্য যে, তিনি মমতার নিজের আসন হিসেবে পরিচিত ভবানীপুর কেন্দ্রে তাকে সরাসরি পরাজিত করে এই বিশাল চমক সৃষ্টি করেছেন।
তবে দলের একাধিক দায়িত্বশীল নেতা নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানিয়েছেন, মুখ্যমন্ত্রী পদের জন্য আরও দুজনের নাম গুরুত্বের সঙ্গে আলোচনায় রয়েছে। তারা হলেন রাজ্য বিজেপির বর্তমান সভাপতি সামিক ভট্টাচার্য এবং দলের অন্যতম সহ-সভাপতি অগ্নিমিত্রা পল। চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত খুব দ্রুতই দিল্লির হাইকমান্ড থেকে জানিয়ে দেওয়া হবে।


