কনকনে শীতের রাতে মহাসড়কের পাশে পড়ে ছিল এক সদ্যজাত শিশু। মৃত্যু যখন খুব কাছে, ঠিক তখনই দেবদূতের মতো হাজির হন দুই তরুণ। তাদের মানবিকতায় নিশ্চিত মৃত্যুর হাত থেকে ফিরে আসা সেই নবজাতক ছেলে শিশুটি অবশেষে পেয়েছে তার নতুন ঠিকানা।
যাবতীয় আইনি প্রক্রিয়া, যাচাই-বাছাই এবং দীর্ঘ চিকিৎসা শেষে শিশুটিকে আজ নিরাপদ আশ্রয়ে হস্তান্তর করা হয়েছে।
শনিবার (২৯ নভেম্বর) বগুড়ার শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল থেকে শিশুটিকে আনুষ্ঠানিকভাবে হস্তান্তর করা হয়। এর মধ্য দিয়ে গত এক সপ্তাহের উৎকণ্ঠার অবসান ঘটল।
ঘটনার সূত্রপাত গত ২৩ নভেম্বর, ২০২৫। রাত তখন আনুমানিক আড়াইটা। বগুড়ার শাজাহানপুর থানাধীন ৯ মাইল এলাকায় মহাসড়কের পাশে কান্নার আওয়াজ শুনতে পান পথচারী দুই তরুণ মোঃ হামিম ও মোঃ তানভীর। তারা দুজনেই শেরপুর থানার বাসিন্দা। হামিমের বাড়ি কালদাপাড়া এবং তানভীরের বাড়ি মহিপুর গ্রামে।
কোনো পিছুটান বা ভয়ভীতির তোয়াক্কা না করে এই দুই হৃদয়বান তরুণ তাৎক্ষণিকভাবে শিশুটিকে উদ্ধার করেন। দ্রুততম সময়ে তারা নবজাতকটিকে নিয়ে পৌঁছান শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে। জরুরি বিভাগে প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে তাকে শিশু ওয়ার্ডে ভর্তি করা হয়। চিকিৎসকরা জানান, সঠিক সময়ে হাসপাতালে না আনলে শিশুটিকে বাঁচানো কঠিন হতো।
এ বিষয়ে শাজাহানপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শফিকুল ইসলাম বলেন, “খবর পাওয়ার পর থেকেই আমরা শিশুটির নিরাপত্তা ও চিকিৎসার বিষয়ে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়েছি। আইনি প্রক্রিয়া ও আদালতের নির্দেশনা মেনে যথাযথ যাচাই-বাছাই শেষে শিশুটিকে আজ নিরাপদ হেফাজতে হস্তান্তর করা হয়েছে। যে দুই তরুণ শিশুটিকে বাঁচিয়েছেন, তাদের এই মানবিক কাজ নিঃসন্দেহে প্রশংসার দাবিদার।”
হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, এক সপ্তাহ চিকিৎসার পর শিশুটি এখন পুরোপুরি সুস্থ। চিকিৎসার পাশাপাশি তাকে হস্তান্তরের আইনি প্রক্রিয়াও চলছিল। সব নিয়মকানুন মেনে আজ ২৯ নভেম্বর শিশুটিকে নতুন ঠিকানায় তুলে দেওয়া হয়।
শিশুটিকে নতুন জীবনে ফিরিয়ে দেওয়ায় দুই তরুণ হামিম এবং তানভীরের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন স্থানীয় প্রশাসন ও সাধারণ মানুষ। তাদের এই সাহসিকতা ও মানবিক বোধ সমাজের জন্য এক অনন্য দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। একইসঙ্গে এই মহৎ কাজে সহায়তাকারী চিকিৎসক, নার্স ও প্রশাসনের কর্মকর্তাদের প্রতিও ধন্যবাদ জানানো হয়েছে।


