নওগাঁ জেলার শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে কর্মরত শিক্ষকদের কোচিং বাণিজ্য বন্ধ করতে দশটি নির্দেশনা দিয়ে গণবিজ্ঞপ্তি জারী করেছেন নওগাঁর জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম। রোববার (১১ জানুয়ারি) স্বাক্ষরিত এ আজ মঙ্গলবার জেলা প্রশাসকের ফেইসবুক আইডিতে প্রকাশ করেন।
গণবিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষকদের কোচিং বাণিজ্য বন্ধ নীতিমালা ২০১২ এবং বিভাগীয় কমিশনারের কার্যালয়, রাজশাহী এর মানসম্মত শিক্ষা বাস্তবায়নের লক্ষ্যে নভেম্বর ২০২৫ মাসে অনুষ্ঠিত সভায় শিক্ষকগণের কোচিং সেন্টার এবং কিন্ডারগার্টেনের সাথে সংশ্লিষ্টতা সংক্রান্ত সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নের আলোকে নিম্নলিখিত সিদ্ধান্তসমূহ গৃহীত হলো।
শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে পাঠদান কার্যক্রম চলাকালীন শ্রেণি সময়ের মধ্যে কোন শিক্ষক কোচিং করাতে পারবেন না (শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষকদের কোচিং বাণিজ্য বন্ধ নীতিমালা-২০১২ এর শর্তসাপেক্ষে পারবেন)।
কোন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক তাঁর নিজ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীকে কোচিং করাতে পারবেন না। তবে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান প্রধানের পূর্বানুমতি সাপেক্ষে দৈনিক বা প্রতিদিন অন্য যে কোন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের সীমিত সংখ্যক (১০ জনের বেশি নয়) শিক্ষার্থীকে প্রাইভেট পড়াতে পারবেন। এক্ষেত্রে প্রতিষ্ঠান প্রধানকে লিখিতভাবে ছাত্র-ছাত্রীর তথ্য (রোল, শ্রেণি ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠান উল্লেখসহ) জানাতে হবে।
কোন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক বাণিজ্যিক ভিত্তিতে গড়ে ওঠা কোন কোচিং সেন্টারে নিজে প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে যুক্ত হতে পারবেন না বা নিজে কোন কোচিং সেন্টারের মালিক হতে পারবেন না বা কোচিং সেন্টার গড়ে তুলতে
পারবেন না।
কোন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক কোন শিক্ষার্থীকে কোচিং এ যেতে উৎসাহিত বা উদ্বুদ্ধ বা বাধ্য করতে পারবেন না। এমনকি কোন শিক্ষক/শিক্ষার্থীর নাম ব্যবহার করে বিজ্ঞাপন/ প্রচারণা চালাতে পারবেন না।
শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের পরিচালনা কমিটি স্ব-স্ব প্রতিষ্ঠানের শিক্ষকদের কোচিং বাণিজ্য রোধে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন এবং তাঁদের নজরে কোচিং বাণিজ্য সম্পর্কিত কোন ঘটনা পরিলক্ষিত হলে অনতিবিলম্বে নিম্নস্বাক্ষরকারীর দপ্তরে অবহিত করবেন।
শিক্ষা প্রতিষ্ঠানসমূহে কোচিং বাণিজ্য বন্ধে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান প্রধান প্রয়োজনীয় প্রচারণার ব্যবস্থা করার পাশাপাশি অভিভাবকদের সাথে নিয়মিত মতবিনিময় করবেন।
কোচিং বাণিজ্য বন্ধে প্রণীত নীতিমালায় বর্ণিত পদক্ষেপ কার্যকর করতে প্রয়োজনীয় অর্থ সংশ্লিষ্ট শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বহন করবে।
কোচিং সেন্টারের নামে বাসা ভাড়া নিয়ে কোচিং বাণিজ্য পরিচালনা করা যাবে না।
কোন শিক্ষার্থী শিক্ষা প্রতিষ্ঠান চলাকালে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ক্লাস বাদ দিয়ে কোচিং এর ক্লাসে উপস্থিত হতে পারবে না।
নীতিমালা অনুযায়ী পরিচালিত বৈধ কোচিং সেন্টার এর সময়সীমা এমনভাবে নির্ধারণ করতে হবে যাতে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের নির্দিষ্ট শিফট চলাকালীন উক্ত শিফটের শিক্ষার্থীকে কোচিং এ পাঠদান না করানো হয়। কোচিং বাণিজ্য রোধে গঠিত জেলা মনিটরিং কমিটি এবং কোচিং সেন্টারের পরিচালকগণ বিষয়টি নিশ্চিত করবেন।
গণবিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, জনস্বার্থে এবং মানসম্মত শিক্ষা নিশ্চিতকরণের লক্ষ্যে উক্ত সিদ্ধান্তসমূহ বাস্তবায়নের জন্য নির্দেশনা জারি করা হলো। অন্যথায় বিধি মোতাবেক আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।


