একাত্তরের মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামি মাওলানা আবুল কালাম আজাদ আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে আত্মসমর্পণ করেছেন। বুধবার (২১ জানুয়ারি) সকালে তিনি ট্রাইব্যুনালে হাজির হয়ে আত্মসমর্পণ করেন।
আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল সূত্র জানায়, আত্মসমর্পণের পর আবুল কালাম আজাদকে পুলিশ হেফাজতে নেওয়া হয়েছে। পরবর্তী আইনগত প্রক্রিয়া আদালতের নির্দেশনা অনুযায়ী চলবে।
এর আগে ২০১৩ সালের ২১ জানুয়ারি আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল তাকে মৃত্যুদণ্ড দেন। রায় ঘোষণার পর থেকেই তিনি পলাতক ছিলেন। দীর্ঘ সময় অনুপস্থিত থাকার পর পরিবর্তিত রাজনৈতিক ও আইনি প্রেক্ষাপটে তিনি আত্মসমর্পণের পথে আসেন।
ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানে ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট শেখ হাসিনার সরকার ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল পুনর্গঠন করা হয়। ওই পরিস্থিতিতে ২০২৫ সালের ৮ জুলাই সাজা স্থগিত চেয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে আবেদন করেন আবুল কালাম আজাদ। পরে একই বছরের ২২ অক্টোবর সরকার তার সাজা এক বছরের জন্য স্থগিত করে। সে সময় সুপ্রিম কোর্টে আপিলের আগে তাকে আত্মসমর্পণের নির্দেশ দেওয়া হয়। সেই নির্দেশনার ধারাবাহিকতায় তিনি ট্রাইব্যুনালে হাজির হন।
আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে ২০১১ সালে মানবতাবিরোধী অপরাধের এ মামলার বিচার শুরু হয়। শুরু থেকেই আবুল কালাম আজাদ বিচার প্রক্রিয়ায় অনুপস্থিত ছিলেন এবং তার অনুপস্থিতিতেই বিচার কার্যক্রম পরিচালিত হয়। স্বাধীনতাযুদ্ধ চলাকালে তার বিরুদ্ধে মোট আটটি মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগ আনা হয়।
২০১৩ সালে দেওয়া রায়ে আদালত সাতটি অভিযোগে তাকে দোষী সাব্যস্ত করেন। এর মধ্যে তিনটি অভিযোগে মৃত্যুদণ্ড এবং চারটি অভিযোগে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেওয়া হয়। ফাঁসির রায় ঘোষণার প্রায় এক যুগ পর আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে তার আত্মসমর্পণ করলেন তিনি।


