সাপ্তাহিক ছুটি ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস উপলক্ষে টানা দুই দিন বন্ধ থাকার পর আবার সচল হয়েছে বেনাপোল স্থলবন্দর। রোববার (২২ ফেব্রুয়ারি) সকাল থেকে এ বন্দর দিয়ে ভারত-এর সঙ্গে আমদানি-রফতানি কার্যক্রম শুরু হয়।
ছুটির কারণে দুই দিন ধরে আমদানি-রফতানি ও পণ্য খালাস বন্ধ থাকায় বন্দরে পণ্যের চাপ বাড়ে এবং সরকারের উল্লেখযোগ্য রাজস্ব আদায়ও ব্যাহত হয়। তবে রোববার থেকে কার্যক্রম শুরু হওয়ায় ধীরে ধীরে সেই জট কমতে শুরু করেছে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।
বেনাপোল বন্দরের আমদানি-রফতানি সমিতির সহসভাপতি আমিনুল হক বলেন, কার্যক্রম চালু হওয়ায় বন্দরে আবার কর্মচাঞ্চল্য ফিরেছে। ব্যবসায়ী, সিঅ্যান্ডএফ এজেন্ট, বন্দর ও কাস্টমসের কর্মকর্তা-কর্মচারী এবং শ্রমিকরা পণ্য খালাসে ব্যস্ত সময় পার করছেন।
বেনাপোল বন্দরের পরিচালক (ট্রাফিক) শামিম হোসেন জানান, সাপ্তাহিক ছুটি ও ২১ ফেব্রুয়ারির সরকারি ছুটি শেষে আমদানি-রফতানিসহ বন্দরের সব কার্যক্রম পুনরায় চালু হয়েছে। ব্যবসায়ীরা যেন দ্রুত পণ্য খালাস নিতে পারেন, সে বিষয়ে সংশ্লিষ্টদের প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
বন্দর সূত্রে জানা গেছে, বেনাপোল স্থলবন্দর দিয়ে প্রতিদিন গড়ে প্রায় ৬০০ ট্রাক পণ্য আমদানি এবং প্রায় ২০০ ট্রাক পণ্য রফতানি হয়। পাশাপাশি দৈনিক প্রায় ৫০০ ট্রাক পণ্য খালাস করা হয়। আমদানি পণ্য থেকে প্রতিদিন গড়ে প্রায় ৩০ কোটি টাকার রাজস্ব আদায় হয়।
যদিও এ বন্দরে সপ্তাহের সাত দিনই ২৪ ঘণ্টা বাণিজ্য সেবা চালুর কথা রয়েছে, বাস্তবে সরকারি ছুটি, সাপ্তাহিক বন্ধ ও বিভিন্ন প্রতিবন্ধকতার কারণে মাঝেমধ্যে আমদানি-রফতানি ও পণ্য খালাস কার্যক্রম বন্ধ থাকে।
বন্দরের তথ্য অনুযায়ী, রোববার সকাল ৯টা থেকে কার্যক্রম শুরু হয়। দুপুর ১২টা পর্যন্ত ভারত থেকে ৭২ ট্রাক পণ্য আমদানি এবং বাংলাদেশ থেকে ২৭ ট্রাক পণ্য রফতানি হয়েছে।
আমদানি পণ্যের মধ্যে রয়েছে শিল্পকারখানার কাঁচামাল, তৈরি পোশাক ও গার্মেন্টস সামগ্রী, কেমিক্যাল, শিশু খাদ্য, বিভিন্ন ধরনের ফল, মাছ ও অক্সিজেন। অন্যদিকে রফতানি পণ্যের তালিকায় রয়েছে কেমিক্যাল, কাঁচা লোহা, মাছ, বসুন্ধরা টিস্যু এবং ওয়ালটনের বিভিন্ন পণ্য।


