অন্বেষণ ডেস্ক : সিঙ্গাপুর জেনারেল হাসপাতালে নিবিড় পর্যবেক্ষণে থাকা বিএনপির অন্যতম শীর্ষ নেতা মির্জা আব্বাসের শারীরিক অবস্থা বর্তমানে বেশ উন্নতির দিকে। সোমবার (২৩ মার্চ) সমাজকল্যাণ মন্ত্রী এ জেড এম জাহিদ হোসেন সংবাদমাধ্যমকে এই স্বস্তিদায়ক তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
তিনি জানান, সংশ্লিষ্ট চিকিৎসকদের সঙ্গে তাদের নিয়মিত যোগাযোগ হচ্ছে। সর্বশেষ স্বাস্থ্য পরীক্ষাগুলোর পর চিকিৎসকরা নিশ্চিত করেছেন যে, এই প্রবীণ রাজনীতিবিদের বিভিন্ন শারীরিক প্যারামিটার বেশ ইতিবাচক ইঙ্গিত দিচ্ছে।
ফলে দীর্ঘ কয়েক দিন ধরে চলা উদ্বেগ ও উৎকণ্ঠার পর তার পরিবার এবং রাজনৈতিক অনুসারীদের মাঝে কিছুটা আশার আলো দেখা যাচ্ছে। সমাজকল্যাণ মন্ত্রী তার বক্তব্যে সার্বিক পরিস্থিতির একটি সুস্পষ্ট চিত্র তুলে ধরেন।
তিনি গণমাধ্যমের সামনে বলেন, “উনার অবস্থা উন্নতির দিকে, আলহামদুলিল্লাহ। তবে ব্রেইনের বিষয় হওয়ায় পুরোপুরি সুস্থ হতে কিছুটা সময় লাগবে।” পাশাপাশি তিনি এই সংকটময় মুহূর্তে মির্জা আব্বাসের দ্রুত আরোগ্য লাভের জন্য সমগ্র দেশবাসীর কাছে আন্তরিকভাবে দোয়া কামনা করেন।
উল্লেখ্য যে, গত ১৫ মার্চ শারীরিকভাবে অত্যন্ত গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েন বিএনপির এই বর্ষীয়ান নেতা। পরিস্থিতির অবনতি ঘটলে তাকে দ্রুততম সময়ের মধ্যে ঢাকা থেকে একটি বিশেষ এয়ার অ্যাম্বুলেন্সে করে সিঙ্গাপুরে স্থানান্তর করা হয়।
এরপর তাকে সরাসরি সিঙ্গাপুর জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করে চিকিৎসা কার্যক্রম শুরু করা হয়। অন্যদিকে, সেখানে অবস্থানরত মির্জা আব্বাসের একান্ত সহকারী সচিব মিজানুর রহমান সোহেল সর্বশেষ পরিস্থিতি সম্পর্কে আরও কিছু আশাব্যঞ্জক তথ্য জানিয়েছেন।
তিনি জানান, সোমবার সকাল ১০টার দিকে দায়িত্বরত চিকিৎসকরা তাকে প্রথমবারের মতো বেড থেকে উঠিয়ে চেয়ারে বসতে সহায়তা করেন। দীর্ঘ সময় শয্যাশায়ী থাকার পর এই পদক্ষেপটিকে অত্যন্ত ইতিবাচক একটি অগ্রগতির লক্ষণ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
এর পাশাপাশি তিনি আরও একটি সুসংবাদ গণমাধ্যমকে দেন। চিকিৎসকদের নিবিড় সেবায় ধীরে ধীরে কথা বলার সক্ষমতাও ফিরে পাচ্ছেন মির্জা আব্বাস। এটি তার স্নায়বিক ও শারীরিক পুনরুদ্ধারের ক্ষেত্রে একটি বড় মাইলফলক হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
বর্তমানে হাসপাতালের বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের একটি মেডিকেল বোর্ড তার চিকিৎসার বিষয়টি সার্বক্ষণিক মনিটরিং করছেন। তার প্রতিটি চিকিৎসা পদ্ধতি অত্যন্ত সতর্কতার সঙ্গে প্রয়োগ করা হচ্ছে।
বিদেশে এই কঠিন সময়ে হাসপাতালেই সার্বক্ষণিক তার পাশে রয়েছেন সহধর্মিণী আফরোজা আব্বাস এবং ছেলে ইয়াসীর আব্বাস। পরিবারের সদস্যরা তার শারীরিক অগ্রগতির বিষয়ে সার্বক্ষণিক খোঁজখবর রাখছেন এবং দেশবাসীর কাছে অব্যাহত দোয়া চেয়েছেন।


