অন্বেষণ ডেস্ক : আলোচিত শহীদ শরিফ ওসমান হাদি হত্যাকাণ্ডের প্রধান দুই আসামিকে ট্রানজিট রিমান্ডে ভারতের রাজধানী দিল্লিতে নিয়ে গেছে দেশটির জাতীয় তদন্ত সংস্থা বা এনআইএ। গত সোমবার রাতে পশ্চিমবঙ্গের বিধাননগর আদালতের কড়া নিরাপত্তায় ফয়সাল করিম মাসুদ ও তাঁর সহযোগী আলমগীর হোসেনকে এনআইএর হেফাজতে হস্তান্তর করা হয়।
উল্লেখ্য যে, গত বছরের ১২ ডিসেম্বর বাংলাদেশের রাজধানী ঢাকায় ইনকিলাব মঞ্চের আহ্বায়ক শরিফ ওসমান হাদিকে প্রকাশ্যে গুলি করে নির্মমভাবে হত্যা করা হয়। এই চাঞ্চল্যকর ঘটনার পরপরই মূল অভিযুক্তরা অত্যন্ত সুকৌশলে দেশ ছেড়ে পালিয়ে যান।
ফলে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর দীর্ঘ পুলিশি তদন্তে নিষিদ্ধ সংগঠন ছাত্রলীগের সাবেক নেতা ফয়সালের নাম অত্যন্ত জোরালোভাবে উঠে আসে। গোয়েন্দা কর্মকর্তারা নিশ্চিত করেন, যে মোটরসাইকেলে চেপে এসে ওসমান হাদিকে লক্ষ্য করে গুলি ছোড়া হয়েছিল, তাতে ফয়সাল ও আলমগীর সরাসরি উপস্থিত ছিলেন।
এরপর আসামিরা অবৈধভাবে সীমান্ত অতিক্রম করে ভারতে প্রবেশ করেন এবং সেখানে আত্মগোপন করেন। তবে গত ৮ মার্চ পশ্চিমবঙ্গ-বাংলাদেশ সীমান্ত লাগোয়া বনগাঁ এলাকা থেকে এই দুজনকে সন্দেহভাজন হিসেবে আটক করে পশ্চিমবঙ্গ পুলিশের বিশেষ টাস্কফোর্স বা এসটিএফ।
প্রাথমিকভাবে অবৈধ অনুপ্রবেশের দায়ে গ্রেপ্তারের পর, স্থানীয় পুলিশ দুজনকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ১৪ দিনের রিমান্ডে নিয়েছিল। দীর্ঘ রিমান্ড শেষে কড়া নিরাপত্তায় তাঁদের আদালতে আনা হলে বিচারক দুজনকে আরও ১২ দিনের জন্য কারা হেফাজতে রাখার নির্দেশ প্রদান করেন।
তবে গতকাল সোমবার পশ্চিমবঙ্গের উত্তর চব্বিশ পরগনা জেলার বিধাননগর মহকুমা বিচার বিভাগীয় আদালতে পরিস্থিতি নতুন মোড় নেয়। ভারতের জাতীয় গোয়েন্দা সংস্থা এনআইএ ফয়সাল ও আলমগীরকে নিজেদের হেফাজতে নেওয়ার জন্য বিচারকের কাছে আনুষ্ঠানিকভাবে আবেদন জানায়।
শুনানি শেষে আদালত এনআইএর সেই আবেদন মঞ্জুর করেন এবং রাতেই তাঁদের ট্রানজিট রিমান্ডে বিমানে করে দিল্লিতে নেওয়া হয়। সেখানে পৌঁছানোর পর অতি দ্রুত তাঁদের দিল্লির এনআইএর বিশেষ আদালতে হাজির করা হবে বলে জানা গেছে।
অন্যদিকে, আদালতের চূড়ান্ত অনুমতি সাপেক্ষে এনআইএর দক্ষ গোয়েন্দারা তদন্তের বৃহত্তর স্বার্থে এ দুজনকে নিজস্ব হেফাজতে রেখে ব্যাপকভাবে জিজ্ঞাসাবাদ করবেন। আন্তঃদেশীয় অপরাধ এবং বেআইনি অনুপ্রবেশের পেছনের আসল উদ্দেশ্য জানাই হবে এই জিজ্ঞাসাবাদের অন্যতম প্রধান লক্ষ্য।
এদিকে, হাদি হত্যা মামলায় এই দুই আসামিকে অবৈধ পথে ভারতে পালিয়ে আসতে সাহায্য করার অপরাধে ফিলিপ সাংমা নামের আরও একজনকে আগেই গ্রেপ্তার করা হয়েছে। আদালতের সুস্পষ্ট নির্দেশে ফিলিপকে বর্তমানে বিচার বিভাগীয় কারাগারে কঠোর নজরদারিতে রাখা হয়েছে।
প্রসঙ্গত, গত কয়েকদিন আগে আদালতে নেওয়ার পথে উপস্থিত সাংবাদিকদের নানা প্রশ্নের মুখোমুখি হয়েছিলেন মূল অভিযুক্ত ফয়সাল করিম। সেই সময় তিনি নিজেকে সম্পূর্ণ নির্দোষ দাবি করে প্রকাশ্যে বলেছিলেন, ‘আমি এই কাজ করিনি, এসব কাজের সঙ্গে আমি যুক্ত ছিলাম না।’
এ সময় সাংবাদিকেরা তাঁকে পাল্টা প্রশ্ন করেন যে, রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে তাঁকে ফাঁসানো হয়েছে কি না। তবে তিনি এই অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্নের কোনো উত্তর না দিয়ে দ্রুত এড়িয়ে যান। এখন দিল্লির বিশেষ আদালতের পরবর্তী নির্দেশনার দিকে তাকিয়ে আছেন সবাই।
সংশ্লিষ্ট আইন বিশেষজ্ঞদের মতে, এই ধরনের চাঞ্চল্যকর মামলার আসামিদের ভিন্ন দেশে আটকের পর আইনি প্রক্রিয়া বেশ জটিল হতে পারে। তবে তদন্তকারী সংস্থাগুলোর নিবিড় জিজ্ঞাসাবাদের মাধ্যমে এই ঘটনার নেপথ্যের অনেক অজানা তথ্য দ্রুত আলোর মুখ দেখবে বলে আশা করা হচ্ছে। আপাতত এনআইএর পরবর্তী পদক্ষেপের ওপরই মামলার অগ্রগতি অনেকাংশে নির্ভর করছে।


