চাঁপাইনবাবগঞ্জের ভোলাহাটে প্রায় সাত বছর আগে ‘নিহত’ বলে ধরে নেওয়া আয়েশা খাতুন (২৪) হঠাৎ করেই জীবিত অবস্থায় উদ্ধার হওয়ায় এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে যে তরুণীকে অপহরণের পর হত্যা করা হয়েছে বলে অভিযোগ করে আসছিল পরিবার, তাকেই রোববার রাতে উপজেলা সদরের বাসস্ট্যান্ড থেকে উদ্ধার করে পুলিশ।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ২০১৯ সালের ৩১ মে বাড়ি থেকে বের হওয়ার পর নিখোঁজ হন আয়েশা। দীর্ঘ খোঁজাখুঁজির পর তাকে না পেয়ে তার মা আদুরী বেগম অপহরণের পর হত্যার অভিযোগ এনে মামলা করেন। পরে পুলিশ ও সিআইডির তদন্তে অভিযোগের সত্যতা না পাওয়ায় আদালতে চূড়ান্ত প্রতিবেদন জমা দেওয়া হয়।
তবে বিষয়টি থেমে থাকেনি। ২০২৪ সালে আবারও নতুন করে চারজনকে আসামি করে একই অভিযোগে মামলা করেন আয়েশার মা। সেই মামলাটি এখনও তদন্তাধীন রয়েছে।
পুলিশ জানিয়েছে, উদ্ধার হওয়ার পর আয়েশা জিজ্ঞাসাবাদে ভিন্ন ভিন্ন তথ্য দিয়েছেন। কখনো তিনি কুষ্টিয়ায় থাকার কথা বলেছেন, আবার কখনো ঢাকার মিরপুরে ছিলেন বলে দাবি করেছেন। সোমবার তাকে আদালতে হাজির করা হলে ম্যাজিস্ট্রেট তার জবানবন্দি রেকর্ড করেন। পরে তাকে পরিবারের জিম্মায় দেওয়া হয়।
তবে পরিবারের কাছে হস্তান্তরের পরও আয়েশাকে বাড়িতে পাওয়া যায়নি। এ নিয়ে পরিবারের সদস্যরাও গণমাধ্যমের সামনে কথা বলতে অনীহা প্রকাশ করেছেন।
অন্যদিকে, মামলার এক আসামি নাজমা বেগম অভিযোগ করেছেন, তিনি দীর্ঘদিন ধরে মিথ্যা মামলার হয়রানির শিকার হয়েছেন। তার দাবি, কখনোই আয়েশার সঙ্গে তার কোনো সম্পৃক্ততা ছিল না, অথচ তাকে ও তার পরিবারের সদস্যদের অভিযুক্ত করা হয়েছে।
ভোলাহাট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুল বারিক জানান, গোপন তথ্যের ভিত্তিতে আগে থেকেই অবস্থান নেয় পুলিশ। পরে রাজশাহী থেকে আসা একটি বিআরটিসি বাস ভোলাহাটে পৌঁছালে সেখান থেকেই আয়েশাকে হেফাজতে নেওয়া হয়।


