অন্বেষণ ডেস্ক : দেশ পুনর্গঠন এবং একটি ভঙ্গুর ও বিপর্যস্ত অবস্থা থেকে রাষ্ট্রকে টেনে তোলাই এখন বর্তমান বিএনপি সরকারের সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ। শনিবার (৯ মে) রাজধানীর ফার্মগেটে কৃষিবিদ ইনস্টিটিউশনে আয়োজিত এক মতবিনিময় সভায় এ কথা বলেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী এবং বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।
এদিন বিএনপি, যুবদল, স্বেচ্ছাসেবক দল ও ছাত্রদলের জেলা পর্যায়ের নেতাদের সঙ্গে এই মতবিনিময় সভার আয়োজন করা হয়। দীর্ঘ রাজনৈতিক সংগ্রামের মধ্য দিয়ে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) আজ জনগণের বিপুল সমর্থনে সরকার গঠন করতে সক্ষম হয়েছে বলে মন্তব্য করেন তিনি।
নেতাকর্মীদের উদ্দেশে মির্জা ফখরুল বলেন, দলের এই দীর্ঘ সংগ্রাম ছিল মূলত দেশ, গণতন্ত্র এবং জনগণের হারানো অধিকার রক্ষার এক অবিরাম লড়াই। তবে সরকার গঠনের পর এখন তাদের সামনে আরও অনেক বেশি কঠিন ও গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব অপেক্ষা করছে।
তিনি উল্লেখ করেন, বর্তমান সরকার এমন এক সংকটময় পরিস্থিতিতে রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব গ্রহণ করেছে, যেখানে চারদিকে কেবল অভাব আর বহুমুখী সমস্যা বিরাজমান। ফলে, এই ধ্বংসস্তূপ থেকে শুধু দলকে নয়, বরং সমগ্র রাষ্ট্রযন্ত্র ও সরকারকে নতুন করে পুনর্গঠন করতে হবে।
অন্যদিকে, এই কঠিন চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করে দেশকে একটি স্থিতিশীল অবস্থায় ফিরিয়ে আনাই এখন দলের মূল লক্ষ্য হিসেবে নির্ধারণ করা হয়েছে। বিএনপি মহাসচিব দৃঢ় আশা প্রকাশ করে জানান, দলের চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের যোগ্য নেতৃত্বে বাংলাদেশকে একটি নতুন ও সমৃদ্ধির পথে এগিয়ে নেওয়া সম্ভব হবে।
দলীয় তৃণমূলকে আরও সুসংগঠিত করার ওপর বিশেষ জোর দেন মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তিনি বলেন, অতীতের দীর্ঘ আন্দোলন, ত্যাগ ও সংগ্রামের কথা সবসময় স্মরণ রাখতে হবে। সেই সঙ্গে দলের সাংগঠনিক কাঠামোকে প্রতিটি স্তরে আরও শক্তিশালী করে তুলতে হবে।
পাশাপাশি বর্তমান সরকারের যাবতীয় উন্নয়ন কর্মকাণ্ড ও ইতিবাচক পদক্ষেপগুলো প্রান্তিক ও তৃণমূল পর্যায়ের মানুষের দোরগোড়ায় পৌঁছে দেওয়ার নির্দেশ দেন তিনি। এছাড়া সাধারণ জনগণের সঙ্গে নিরবচ্ছিন্ন ও নিবিড় যোগাযোগ বজায় রাখার জন্য স্থানীয় নেতাদের প্রতি আহ্বান জানান তিনি।
শনিবার সকাল পৌনে ১১টায় শুরু হওয়া এই গুরুত্বপূর্ণ মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে সরাসরি উপস্থিত থেকে বক্তব্য প্রদান করেন বিএনপির চেয়ারম্যান ও বর্তমান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তার দিকনির্দেশনামূলক বক্তব্যে দলের ভবিষ্যৎ করণীয় সম্পর্কে স্পষ্ট বার্তা দেওয়া হয়।
এই মতবিনিময় সভায় সভাপতিত্ব করেন দলের সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী আহমেদ। এতে বিএনপির শীর্ষ পর্যায়ের অনেক নেতা উপস্থিত থেকে দলের ঐক্য ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার বিষয়ে নিজেদের সমর্থন ও প্রতিশ্রুতি ব্যক্ত করেন।
অনুষ্ঠানে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন, আবদুল মঈন খান, আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী এবং সালাহউদ্দিন আহমদ উপস্থিত ছিলেন। এছাড়া ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু, সেলিমা রহমান ও ডা. এজেডএম জাহিদ হোসেনসহ কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় পর্যায়ের বিপুলসংখ্যক নেতাকর্মী এই সভায় অংশ নেন।


