অন্বেষণ

দেশ-বিদেশের সর্বশেষ বাংলা সংবাদ

Sponsored Link

নোয়াখালীতে জামায়াত নেতার বাড়ি থেকে ৯৯ বস্তা সরকারি চাল উদ্ধার

অন্বেষণ ডেস্ক
অন্বেষণ ডেস্ক
|
প্রকাশিত: ১৬ মে, ২০২৬
|
পড়ার সময়: মিনিট
অক্ষরের আকার:

অন্বেষণ ডেস্ক : নোয়াখালীতে সরকারি চাল উদ্ধারের ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। শনিবার (১৬ মে) বিকেলে জেলার সুবর্ণচর উপজেলার চরজব্বার ইউনিয়নের ইমানআলী বাজার এলাকার এক জামায়াত নেতার বাড়ি থেকে ৯৯ বস্তা চাল জব্দ করে স্থানীয় প্রশাসন।

অভিযুক্ত ওই ব্যক্তির নাম মো. আবদুস সামাদ। তিনি এলাকায় ডাক্তার সামাদ হিসেবেই বেশি পরিচিত। স্থানীয় সূত্রগুলো থেকে জানা গেছে, তিনি চরজব্বার ইউনিয়নের ৯ নম্বর ওয়ার্ড জামায়াতের আমির হিসেবে দীর্ঘদিন ধরে দায়িত্ব পালন করছেন।

Sponsored Link

স্থানীয় বাসিন্দাদের দীর্ঘদিনের অভিযোগ, অত্যন্ত গোপনে ওই বাড়িতে সরকারি চাল অবৈধভাবে মজুত করে রাখা হচ্ছিল। পরবর্তীতে সুযোগ বুঝে কালোবাজারে এসব চাল বেশি দামে বিক্রি করার উদ্দেশ্যেই সেখানে স্তূপ করে রাখা হয়েছিল বলে তারা মনে করেন।

অন্যদিকে, শনিবার সকালে এলাকার বেশ কয়েকজন বাসিন্দা হঠাৎ বিষয়টি টের পেয়ে আবদুস সামাদের বাড়িতে গিয়ে উপস্থিত হন। সেখানে তারা একটি নির্দিষ্ট কক্ষে বিপুল পরিমাণ সরকারি চালের বস্তা দেখতে পান। স্থানীয়রা জানান, চালগুলো অন্যত্র সরিয়ে ফেলার প্রস্তুতি চলছিল।

Sponsored Link

ফলে উপস্থিত সাধারণ মানুষের মধ্যে ব্যাপক ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। তারা কালক্ষেপণ না করে তাৎক্ষণিকভাবে বিষয়টি সুবর্ণচর উপজেলা প্রশাসন এবং স্থানীয় পুলিশকে বিস্তারিতভাবে অবহিত করেন। এতে প্রশাসনের নজরদারি বৃদ্ধি পায়।

খবর পাওয়ার পরপরই প্রশাসনের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তারা অত্যন্ত দ্রুততার সঙ্গে ঘটনাস্থলে ছুটে যান। এরপর তারা ওই বাড়িতে আনুষ্ঠানিক অভিযান পরিচালনা করেন। অভিযান চলাকালে অবৈধভাবে মজুত করে রাখা ৯৯ বস্তা সরকারি চাল উদ্ধার করা হয়।

Sponsored Link

উল্লেখ্য যে, উদ্ধারকৃত চালগুলো নিরাপত্তার স্বার্থে প্রাথমিকভাবে চরজব্বার ইউনিয়ন পরিষদে নিয়ে রাখা হয়েছে। পরবর্তী আইনি প্রক্রিয়া এবং তদন্তের কাজ শেষ না হওয়া পর্যন্ত সেগুলো সেখানেই সংরক্ষিত থাকবে বলে প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।

তবে সরকারি চাল উদ্ধারের বিষয়ে জানতে চাইলে অভিযুক্ত আবদুস সামাদ তার বিরুদ্ধে ওঠা সকল অভিযোগ সম্পূর্ণভাবে অস্বীকার করেছেন। তিনি দাবি করেন যে, এই ঘটনার সঙ্গে তার ব্যক্তিগত কোনো সম্পৃক্ততা নেই এবং চালগুলো বৈধভাবে আনা হয়েছে।

Sponsored Link

নিজের স্বপক্ষে যুক্তি তুলে ধরে তিনি জানান, তার ছোট ভাই ডাক্তার আজগর পেশায় একজন ডিলার। একটি নূরানী মাদরাসার নামে সরকারিভাবে বরাদ্দ হওয়া চাল তার ভাই কিনে এনেছিলেন। সেগুলোই সাময়িকভাবে তাদের বাড়িতে এনে রাখা হয়েছিল।

এ প্রসঙ্গে সুবর্ণচর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আকিব ওসমান সাংবাদিকদের কাছে ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, স্থানীয়দের কাছ থেকে সুনির্দিষ্ট অভিযোগ পেয়েই তাৎক্ষণিকভাবে প্রশাসন সেখানে অভিযান চালিয়ে চালগুলো উদ্ধার করতে সক্ষম হয়েছে।

Sponsored Link

ইউএনও আরও বলেন, উদ্ধার করা চাল ক্রয়ের বিষয়ে অভিযুক্তদের কাছে আদৌ কোনো বৈধ কাগজপত্র আছে কি না, তা গুরুত্বের সঙ্গে যাচাই-বাছাই করে দেখা হচ্ছে। প্রয়োজনীয় কাগজপত্র দেখাতে ব্যর্থ হলে আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

বর্তমানে পুরো বিষয়টি উপজেলা প্রশাসনের নিবিড় পর্যবেক্ষণে রয়েছে। সুষ্ঠু তদন্ত সাপেক্ষে যদি অবৈধ মজুতের বিষয়টি প্রমাণিত হয়, তবে জড়িত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে বিধি মোতাবেক অত্যন্ত কঠোর আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলে প্রশাসন চূড়ান্তভাবে নিশ্চিত করেছে।

Sponsored Link
ট্যাগসমূহ
Sponsored Link

পাঠক মন্তব্য (টি মন্তব্য)

✓ আপনার মন্তব্য অনতিবিলম্বে প্রকাশ করা হবে ও সঞ্চিত থাকবে।

প্রথম পাঠক হিসেবে মতামত দিন

Sponsored Link