রাজধানীতে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) সদর দফতরের অফিসার কোয়ার্টারের একটি বাসার বাথরুম থেকে বিবি হালিমা (১১) নামে এক গৃহকর্মীর মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। প্রাথমিকভাবে পুলিশ ধারণা করছে, সে গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করেছে।
সোমবার (২৩ ফেব্রুয়ারি) বিকেল ৩টার দিকে বিজিবি সদর দফতরের অফিসার্স কোয়ার্টারে ওই ঘটনা ঘটে। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করে এবং ময়নাতদন্তের জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল মর্গে পাঠায়।
বিজিবির জনসংযোগ কর্মকর্তা শরিফুল ইসলাম জানান, চাকরির ব্যস্ততার কারণে তিনি ও তাঁর স্ত্রী দুজনই দিনের বড় একটি সময় কর্মস্থলে থাকেন। সে কারণে প্রায় পাঁচ থেকে ছয় মাস আগে হালিমাকে বাসায় রাখা হয়। তার দায়িত্ব ছিল কেবল ১১ মাসের শিশুসন্তানকে দেখাশোনা করা; বাসার অন্য কোনো কাজ তার ওপর দেওয়া হয়নি বলেও দাবি করেন তিনি।
ঘটনার দিন সকালে প্রতিদিনের মতোই শিশুটিকে গৃহকর্মীর কাছে রেখে স্বামী-স্ত্রী দুজনই কর্মস্থলে চলে যান। দুপুরের দিকে ভবনের নিচে শিশুটিকে একা খেলতে দেখে আশপাশের লোকজন বিষয়টি সন্দেহজনক মনে করেন। পরে তারা ফ্ল্যাটে উঠে গৃহকর্মীকে খুঁজতে গিয়ে বাথরুমের দরজা ভেতর থেকে বন্ধ পান।
খবর পেয়ে শরিফুল ইসলাম ও তাঁর স্ত্রী দ্রুত বাসায় ফিরে আসেন। এরপর পুলিশে খবর দেওয়া হলে বাথরুমের দরজা ভেঙে ভেতরে ঢুকে গলায় ফাঁস দেওয়া অবস্থায় হালিমার ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
নিউমার্কেট থানা–র উপপরিদর্শক (এসআই) মারুফ হাসান জানান, বাথরুমে কাপড় রাখার হ্যাঙ্গারের সঙ্গে ওড়না পেঁচিয়ে গলায় ফাঁস দেওয়া অবস্থায় মরদেহটি পাওয়া যায়। তিনি আরও জানান, হালিমার বাড়ি কামরাঙ্গীরচর এলাকার ভাণ্ডারিয়ার মোড়ে। তার বাবা মৃত শাহ আলম।
এসআই মারুফ বলেন, কী কারণে ওই কিশোরী আত্মহত্যা করেছে, তা তাৎক্ষণিকভাবে জানা যায়নি। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ নিশ্চিত হওয়া যাবে। এ ঘটনায় আইনগত প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।


