অন্বেষণ ডেস্ক : র্যাবের সাবেক অতিরিক্ত মহাপরিচালক (এডিজি) ও সিএমপি’র সাবেক কমিশনার জলিল মন্ডল গ্রেপ্তার হয়েছেন। জুলাই-আগস্টের ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানে মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে দায়ের করা মামলায় তাকে গ্রেপ্তার করেছে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)।
সোমবার (৩০ মার্চ) সন্ধ্যায় রাজধানীর খিলগাঁও এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাকে আটক করা হয়। ডিবি পুলিশের একটি বিশেষ টিম তার নিজ বাড়ি থেকে তাকে গ্রেপ্তার করে।
গ্রেপ্তারের পর এই সাবেক পুলিশ কর্মকর্তাকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য মিন্টো রোডের ডিবি কার্যালয়ে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। বর্তমানে তিনি সেখানেই গোয়েন্দা হেফাজতে রয়েছেন বলে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী নিশ্চিত করেছে।
এ বিষয়ে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা গণমাধ্যমকে আনুষ্ঠানিকভাবে তথ্য দিয়েছেন। তিনি জানান, জুলাই-আগস্টের গণঅভ্যুত্থানে মানবতাবিরোধী অপরাধের একটি মামলায় তার বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট গ্রেপ্তারি পরোয়ানা ছিল।
মূলত সেই পরোয়ানার ভিত্তিতেই সোমবার সন্ধ্যায় খিলগাঁওয়ের বাসভবনে অভিযান পরিচালনা করা হয়। তবে গ্রেপ্তারের সময় তিনি কোনো ধরনের বাধা দেওয়ার চেষ্টা করেননি বলে গোয়েন্দা সূত্রে জানা গেছে।
অন্যদিকে, বিগত সরকারের আমলে সংঘটিত বিভিন্ন হত্যা ও মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচার নিশ্চিতে দেশজুড়ে সাঁড়াশি অভিযান চলছে। এর অংশ হিসেবেই একের পর এক সাবেক প্রভাবশালী কর্মকর্তারা গ্রেপ্তার হচ্ছেন।
উল্লেখ্য, আব্দুল জলিল মন্ডল বাংলাদেশ পুলিশের একজন জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা হিসেবে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পদে দায়িত্ব পালন করেছেন। ২০১৪ সালে তিনি চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের (সিএমপি) কমিশনার হিসেবে কর্মরত ছিলেন।
পরবর্তীতে ২০১৬ সালে তাকে র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন বা র্যাবের অতিরিক্ত মহাপরিচালক (এডিজি) হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়। সেখানে তিনি বেশ কিছুদিন অত্যন্ত দাপটের সঙ্গে নিজের দায়িত্ব পালন করেন।
র্যাবের এডিজি হিসেবে দায়িত্ব পালনের পর এই পুলিশ কর্মকর্তা স্বাভাবিক নিয়মে অবসরে চলে যান। অবসর জীবনে তিনি খিলগাঁওয়ের নিজ বাসভবনেই বেশি সময় কাটাতেন বলে তার পরিচিতজনরা জানিয়েছেন।
ফলে, সাম্প্রতিক রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর জুলাই-আগস্টের ঘটনার বিচারিক প্রক্রিয়া শুরু হলে এই সাবেক কর্মকর্তার নাম আলোচনায় আসে। মানবতাবিরোধী অপরাধের এই মামলায় তার সুনির্দিষ্ট সম্পৃক্ততা নিয়ে বিস্তারিত তদন্ত চলছে।
আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পরবর্তী পদক্ষেপ হিসেবে তাকে দ্রুতই আদালতে হাজির করা হতে পারে। মামলার সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্তের স্বার্থে ডিবি পুলিশ তাকে রিমান্ডে নেওয়ার আবেদন করতে পারে বলেও সংশ্লিষ্ট আদালত সূত্রে জানা গেছে।
বর্তমানে মামলার এজাহারভুক্ত অন্যান্য আসামিদের ধরতে পুলিশের একাধিক দল নিবিড়ভাবে কাজ করছে। গোয়েন্দা নজরদারি বৃদ্ধির পাশাপাশি দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞাও দেওয়া হয়েছে অনেক সাবেক কর্মকর্তার ওপর।
এই মুহূর্তে জলিল মন্ডলকে ডিবি কার্যালয়ে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। জিজ্ঞাসাবাদ শেষে তার বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের বিষয়ে আরও বিস্তারিত ও বস্তুনিষ্ঠ তথ্য বেরিয়ে আসবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।


