টিসিবির ফ্যামিলি কার্ডের মতো দেশের কৃষকদের জন্য ‘কৃষক কার্ড’ চালুর সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। তবে একসঙ্গে সারাদেশে নয়, প্রথম ধাপে অঞ্চলভেদে পাইলট প্রকল্প হিসেবে এই কর্মসূচি শুরু করা হবে। সফল হলে ধাপে ধাপে সারাদেশে বিস্তৃত করা হবে।
সোমবার (২৩ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে সচিবালয়ে এ তথ্য জানান তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন। তিনি বলেন, সরকারের লক্ষ্য দেশের সব কৃষককে ধীরে ধীরে এই কার্ডের আওতায় আনা।
মন্ত্রী জানান, কৃষক কার্ড চালু করতে প্রধানমন্ত্রীর সভাপতিত্বে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রীদের নিয়ে একটি উচ্চপর্যায়ের বৈঠক চলছে। “কৃষক কার্ড দেওয়া আমাদের নির্বাচনি অঙ্গীকার ছিল। সেই প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের লক্ষ্যেই আজ প্রথম বৈঠক হচ্ছে। যত দ্রুত সম্ভব ফ্যামিলি কার্ডের মতো কৃষক কার্ডের পাইলট প্রকল্প শুরু করা হবে,” বলেন তিনি।
কবে নাগাদ বিতরণ শুরু হতে পারে, এমন প্রশ্নে মন্ত্রী বলেন, এখনই নির্দিষ্ট সময় বলা যাচ্ছে না। প্রস্তুতির সঙ্গে বেশ কিছু বিষয় জড়িত রয়েছে। তবে প্রধানমন্ত্রীর স্পষ্ট নির্দেশনা হলো, যত দ্রুত সম্ভব এটি বাস্তবায়ন করা। এ লক্ষ্যে সংশ্লিষ্ট সব মন্ত্রণালয় একযোগে কাজ করছে।
জহির উদ্দিন স্বপন আরও জানান, কৃষক কার্ডের মাধ্যমে একজন কৃষক উৎপাদনের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সব ধরনের সুযোগ–সুবিধা সরাসরি পাবেন। “কোনো লিকেজ বা মধ্যস্বত্বভোগী যেন সুবিধা নিতে না পারে, সেজন্যই আমরা স্মার্ট কৃষক কার্ডের দিকে যাচ্ছি,” বলেন তিনি।
তার ভাষ্য অনুযায়ী, একজন সিম ক্রেতা যেমন সরাসরি ব্যাংকিং বা বিভিন্ন সেবা পান, তেমনি এই কার্ডের মাধ্যমে কৃষকের সঙ্গে রাষ্ট্রের সরাসরি যোগাযোগ তৈরি হবে। এতে কৃষক উপকৃত হবেন, একই সঙ্গে রাষ্ট্রও কৃষকদের বাস্তব সমস্যাগুলো সরাসরি জানতে পারবে।
উল্লেখ্য, সরকার ইতিমধ্যে ট্রেডিং করপোরেশন অব বাংলাদেশের মাধ্যমে ফ্যামিলি কার্ড চালু করে নিত্যপণ্য বিতরণ করছে। সেই অভিজ্ঞতাকে ভিত্তি করেই কৃষকদের জন্য আলাদা কার্ড চালুর উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।


