নিজস্ব প্রতিবেদক : বগুড়ার শেরপুর উপজেলার খানপুর ও খামাকান্দি ইউনিয়নের ঐতিহাসিক ও বৃহত্তম ভস্তা ঈদগাহ মাঠের কমিটি গঠন করা হয়েছে। রবিবার দুপুরে ঈদগাহ মাঠ প্রাঙ্গণে আয়োজিত এক সাধারণ সভার মাধ্যমে নতুন এই নেতৃত্ব নির্বাচন করা হয়। এলাকার ধর্মপ্রাণ মুসল্লি ও স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিদের উপস্থিতিতে এই সভা অনুষ্ঠিত হয়।
দীর্ঘদিনের ঐতিহ্যবাহী এই ঈদগাহ মাঠের উন্নয়ন ও সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনার লক্ষ্যে পুরানো কমিটি ভেঙে দেওয়ার প্রয়োজনীয়তা দেখা দেয়। সেই লক্ষ্যে রবিবার দুপুরে আয়োজিত সাধারণ সভায় সর্বসম্মতিক্রমে আগের কমিটি বিলুপ্ত ঘোষণা করা হয়। এরপর উপস্থিত সকলের মতামতের ভিত্তিতে নতুন করে কমিটি গঠনের কাজ শুরু হয়।
সভায় গজারিয়া গ্রামের বাসিন্দা বিশিষ্ট সমাজসেবক মো. রবিউল ইসলাম চানকে সভাপতি হিসেবে মনোনীত করা হয়। অন্যদিকে, খানপুর ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ও সালফা গ্রামের বাসিন্দা মো. আব্দুল মজিদকে সাধারণ সম্পাদক হিসেবে নির্বাচিত করা হয়েছে। নবনির্বাচিত সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক উভয়েই ঈদগাহের উন্নয়নে নিবেদিতপ্রাণ হয়ে কাজ করার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন।
নবগঠিত এই কমিটিতে মোট ২১ জন সদস্যকে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে, যারা মাঠের রক্ষণাবেক্ষণ ও কার্যক্রম তদারকি করবেন। কমিটির কার্যক্রমকে সুচারুরূপে পরিচালনার জন্য এবং প্রয়োজনীয় পরামর্শ প্রদানের জন্য ১২ জন বিশিষ্ট ব্যক্তিকে উপদেষ্টা হিসেবে রাখা হয়েছে। উপদেষ্টা মণ্ডলী ও কার্যকরী কমিটির সমন্বয়ে ঈদগাহের সার্বিক উন্নয়ন ত্বরান্বিত হবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করা হয়।
কমিটি গঠন উপলক্ষ্যে আয়োজিত এই সভায় উপস্থিত ছিলেন স্থানীয় বিশিষ্ট আলেম মাওলানা হায়দার আলী ও সমাজসেবক মো. আব্দুল মতিন। এছাড়া আবু সুফিয়ান, আলহাজ্ব জেলহজ্ব ফকির এবং আনিসুর রহমান সহ অনেকেই আলোচনায় অংশ নেন। তাদের উপস্থিতিতে সভাটি বেশ গুরুত্ববহ হয়ে ওঠে এবং স্থানীয় মানুষের মধ্যে উৎসাহ লক্ষ্য করা যায়।
সভায় আরও উপস্থিত ছিলেন প্রবীণ ব্যক্তি ইউসুফ আলী, আব্দুল লতিফ ও শাহ আলম। রমজান আলী, জাহাঙ্গীর ইসলাম, মুঞ্জু মিয়া এবং খোকন মিয়াসহ এলাকার আরও অনেক ধর্মপ্রাণ মানুষ এ সময় উপস্থিত ছিলেন। স্থানীয় দুই ইউনিয়নের মানুষের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণে এই কমিটি গঠন প্রক্রিয়াটি সম্পন্ন হয়।
উল্লেখ্য, শেরপুরের এই বৃহত্তম ঈদগাহ মাঠটি স্থানীয় মুসলিম সম্প্রদায়ের কাছে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি ধর্মীয় স্থান। প্রতি বছর ঈদের জামাতে এখানে হাজারো মানুষের সমাগম ঘটে। তাই সঠিক নেতৃত্বের মাধ্যমে মাঠের পবিত্রতা রক্ষা ও অবকাঠামোগত উন্নয়নের ওপর বিশেষ জোর দেওয়া হয়। নবগঠিত কমিটি সেই প্রত্যাশা পূরণে সচেষ্ট থাকবে বলে সভায় জানানো হয়েছে।


