নিজস্ব প্রতিবেদক : বগুড়ায় সেমাই সংরক্ষণ ও উৎপাদন প্রক্রিয়ায় অনিয়মের অভিযোগে একটি কারখানাকে জরিমানা করেছে জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর। সোমবার (২ মার্চ) দুপুরে জেলা সদরের ইছাদহ এলাকায় অবস্থিত মেসার্স ফাতেমা সেমাই কারখানায় এই অভিযান পরিচালনা করা হয়। অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে খাদ্যপণ্য তৈরি এবং ক্ষতিকর কালির কাগজে সেমাই রাখার অপরাধে প্রতিষ্ঠানটিকে ৩০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড দেওয়া হয়েছে।
সোমবার দুপুরের দিকে এই বিশেষ তদারকি অভিযান পরিচালনা করেন ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর বগুড়া জেলা কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক মো. মেহেদী হাসান। রমজান বা বিভিন্ন উৎসবকে সামনে রেখে অনেক সময় অসাধু ব্যবসায়ীরা অস্বাস্থ্যকর উপায়ে খাদ্যপণ্য তৈরি করে থাকেন। বিষয়টি নজরদারিতে রেখেই এই অভিযান চালানো হয়। ঘটনাস্থলে পৌঁছে আভিযানিক দল কারখানার ভেতরের পরিবেশ পর্যবেক্ষণ করে এবং নানা অসংগতি দেখতে পায়।
কারখানাটিতে অত্যন্ত নোংরা ও অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে সেমাই তৈরি করা হচ্ছিল। খাদ্যপণ্য উৎপাদনের জন্য যে ধরনের পরিচ্ছন্নতা ও স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলা প্রয়োজন, তার কোনোটিই সেখানে মানা হচ্ছিল না। ফ্লোর থেকে শুরু করে সেমাই রাখার পাত্রগুলোও ছিল অপরিচ্ছন্ন। ধুলোবালি ও মাছি ভনভন করা পরিবেশেই চলছিল সেমাই তৈরির কাজ, যা জনস্বাস্থ্যের জন্য হুমকিস্বরূপ।
অভিযানের সময় সবচেয়ে গুরুতর যে বিষয়টি নজরে আসে, তা হলো সেমাই সংরক্ষণের পদ্ধতি। তৈরি করা সেমাইগুলো পুরনো খবরের কাগজে মুড়িয়ে স্তূপ করে রাখা হয়েছিল। উল্লেখ্য, সংবাদপত্রের কাগজে ব্যবহৃত ছাপা কালিতে সীসাসহ বিভিন্ন ক্ষতিকর রাসায়নিক উপাদান থাকে। গরম বা তৈলাক্ত খাবার সরাসরি খবরের কাগজে রাখলে সেই বিষাক্ত কালি খাবারের সঙ্গে মিশে যায়, যা দীর্ঘমেয়াদে ক্যান্সারসহ জটিল রোগের কারণ হতে পারে।
অন্যদিকে, সেমাই বাজারজাত করার জন্য যে প্যাকেটগুলো প্রস্তুত করা হয়েছিল, সেই প্যাকেটের গায়ে উৎপাদন এবং মেয়াদোত্তীর্ণের তারিখ সম্বলিত কোনো স্টিকার বা সিল ছিল না। এর ফলে একজন সাধারণ ক্রেতা পণ্যটি কবে তৈরি বা কবে পর্যন্ত খাওয়া যাবে, তা জানার সুযোগ থেকে বঞ্চিত হচ্ছিলেন। এটি ভোক্তা অধিকার আইনের স্পষ্ট লঙ্ঘন।
এসব অপরাধের দায়ে ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ আইন অনুযায়ী মেসার্স ফাতেমা সেমাই কারখানার মালিককে ৩০ হাজার টাকা জরিমানা আরোপ ও আদায় করা হয়। জরিমানার পাশাপাশি প্রতিষ্ঠানটিকে ভবিষ্যতে সরকারি সকল আইন ও বিধি মেনে নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিত করতে কঠোর নির্দেশনা দেওয়া হয়। অভিযানে কনজ্যুমারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ক্যাব) বগুড়ার সাধারণ সম্পাদক ফজিলাতুন্নেছা ফৌজিয়া এবং জেলা পুলিশের একটি দল সহযোগিতা করেন।


