বগুড়া শহরে একটি মাদকাসক্তি নিরাময় কেন্দ্রে ব্যাংক কর্মকর্তা সামছুল হোসেন শুভর মৃত্যুকে ঘিরে নানা প্রশ্ন উঠেছে।
স্বজনদের অভিযোগ, চিকিৎসার নামে তাকে নির্যাতন করা হয়েছে। তবে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ ও মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর বলছে, শারীরিক অসুস্থতাজনিত কারণেই তার মৃত্যু হয়েছে।
মঙ্গলবার (২৪ ফেব্রুয়ারি) দিবাগত রাতে শহরের সাবগ্রাম এলাকায় অবস্থিত মায়ের আশ্রয় মাদকাসক্তি নিরাময় কেন্দ্রে সামছুল হোসেন শুভর মৃত্যু হয়। তিনি পেশায় একজন ব্যাংক কর্মকর্তা ছিলেন। মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়লে পরিবারের সদস্যরা ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহে নির্যাতনের চিহ্ন থাকার দাবি করেন এবং এটি পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড বলে অভিযোগ তোলেন।
স্বজনরা জানান, শুভর মানসিক সমস্যা ছিল। তার সুস্থতার আশায়ই তাকে নিরাময় কেন্দ্রে ভর্তি করা হয়। কিন্তু সেখানে চিকিৎসার নামে শারীরিক নির্যাতন চালানো হতো বলে অভিযোগ করেন তারা। তাদের দাবি, সেই নির্যাতনের ফলেই শুভর মৃত্যু হয়েছে।
অন্যদিকে, নিরাময় কেন্দ্রের কর্তৃপক্ষ ও মাদক দ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর–এর কর্মকর্তারা অভিযোগটি অস্বীকার করেছেন। অধিদপ্তরের বগুড়া কার্যালয়ের উপ-পরিচালক জিললুর রহমান জানান, শুভ গাঁজা সেবনে আসক্ত ছিলেন। স্বজনরা তাকে গত ১৩ ফেব্রুয়ারি ওই কেন্দ্রে ভর্তি করেন। সেখানে চিকিৎসকদের তত্ত্বাবধানে তিনি চিকিৎসা নিচ্ছিলেন।
জিললুর রহমানের দাবি, ২৪ ফেব্রুয়ারি থেকে শুভ হঠাৎ খাবার গ্রহণ বন্ধ করে দেন। ওই দিন সন্ধ্যার পর তার শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে পরীক্ষা-নিরীক্ষায় রক্তচাপ অস্বাভাবিকভাবে কমে যাওয়ার তথ্য পাওয়া যায়। পরে রাতেই তাকে শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল–এ নেওয়া হলে চিকিৎসকরা তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
পুলিশ কর্মকর্তারা জানান, নিরাময় কেন্দ্রের ভেতরের সিসিটিভি ক্যামেরার ফুটেজ পর্যালোচনা করা হয়েছে। সেখানে শুভর ওপর কোনো নির্যাতনের দৃশ্য বা শরীরে আঘাতের চিহ্ন দেখা যায়নি। তবুও পরিবারের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ থাকায় মরদেহের ময়নাতদন্ত করা হবে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ স্পষ্ট হবে বলে জানিয়েছে পুলিশ।


