নিজস্ব প্রতিবেদক : বগুড়ার শেরপুর উপজেলায় অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে খাদ্যপণ্য উৎপাদন ও সংরক্ষণের অপরাধে নাহিদ এন্ড নাদিম ফুড প্রোডাক্টস নামের একটি প্রতিষ্ঠানকে ১ লাখ টাকা জরিমানা করা হয়েছে। রোববার (১ মার্চ ২০২৬) দুপুরে উপজেলার গোপালপুর এলাকায় জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর এই বিশেষ অভিযান পরিচালনা করে।
অভিযানটি পরিচালনা করেন ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর বগুড়া জেলা কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক মো. মেহেদী হাসান। তিনি জানান, গোপন তথ্যের ভিত্তিতে ওই কারখানায় তদারকি কার্যক্রম চালানো হয়। সেখানে গিয়ে দেখা যায়, অত্যন্ত নোংরা ও অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে শিশুদের খাবার মিছরি তৈরি ও প্রক্রিয়াজাত করা হচ্ছে।
অন্যদিকে, সেমাই সংরক্ষণের প্রক্রিয়া ছিল একেবারেই নিয়মবহির্ভূত এবং স্বাস্থ্যের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ। কারখানার ভেতরে কালির লেখা যুক্ত পুরনো খবরের কাগজ ব্যবহার করে সেমাই মুড়িয়ে রাখা হয়েছিল। যা খাদ্যের সাথে মিশলে তা মানবদেহে দীর্ঘমেয়াদী জটিল রোগের কারণ হতে পারে।
তাছাড়া, সেমাই রাখার খাঁচাগুলো ছিল অপরিচ্ছন্ন এবং জীবাণুযুক্ত। কারখানার রেফ্রিজারেটরে সংরক্ষিত দইয়ের কাপগুলোতে ফাংগাস জমে থাকতে দেখা যায়। দই জমানোর জন্য ব্যবহার করা হচ্ছিল নন-ফুড গ্রেড প্লাস্টিকের পাত্র, যা নিরাপদ খাদ্য আইনের সম্পূর্ণ পরিপন্থী।
এসব অপরাধের দায়ে ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ আইন অনুযায়ী প্রতিষ্ঠানটির মালিকপক্ষকে ১ লাখ টাকা নগদ অর্থদণ্ড প্রদান করা হয়। জরিমানার অর্থ তাৎক্ষণিকভাবে আদায় করা হয়েছে। জনস্বার্থে এ ধরনের তদারকি ও অভিযান অব্যাহত থাকবে বলে জানান সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা।
অভিযান চলাকালে শেরপুর উপজেলা স্যানিটারি ইন্সপেক্টর তাহমিনা আক্তার এবং কনজুমারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ক্যাব) বগুড়ার সাধারণ সম্পাদক ফজিলাতুন্নেছা ফৌজিয়া উপস্থিত ছিলেন। এ সময় জেলা পুলিশের একটি চৌকস দল সার্বিক নিরাপত্তা ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় সহযোগিতা প্রদান করে।
অভিযুক্ত প্রতিষ্ঠানটিকে ভবিষ্যতের জন্য কঠোরভাবে সতর্ক করা হয়েছে। সরকারি বিধিমালা ও স্বাস্থ্যকর পরিবেশ বজায় রেখে নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিত করার নির্দেশনা দেওয়া হয়। অন্যথায় পরবর্তীতে আরও কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলে হুঁশিয়ার করা হয়েছে।


