নিজস্ব প্রতিবেদক : বগুড়ার শেরপুরে ভাতা কার্যক্রম স্থবির হয়ে পড়ায় পৌরসভার বয়স্ক ও প্রতিবন্ধী সুবিধাভোগীরা চরম বিপাকে পড়েছেন। অভিযোগ উঠেছে, উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তার অবহেলায় গত কয়েক মাস ধরে এই মানবিক সহায়তা থেকে বঞ্চিত রয়েছেন শত শত অসহায় মানুষ। বিশেষ করে, ২০২৫-২৬ অর্থবছরের দ্বিতীয় কিস্তির পে-রোল নির্ধারিত সময়ে প্রেরণ না করায় এই সংকট তৈরি হয়েছে বলে ভুক্তভোগীরা দাবি করেছেন।
ভুক্তভোগীদের মতে, কর্মকর্তার স্বেচ্ছাচারিতা ও গাফিলতির কারণেই তাদের প্রাপ্য অর্থ আটকে আছে। এ বিষয়ে প্রতিকার চেয়ে গত ১৯ ফেব্রুয়ারি সমাজসেবা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক বরাবর একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে। এই অভিযোগের অনুলিপি রাজশাহী বিভাগীয় পরিচালক এবং বগুড়া জেলা সমাজসেবা কার্যালয়ের উপপরিচালকের দপ্তরেও পাঠানো হয়েছে।
অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে, দীর্ঘ সময় ধরে ভাতা বন্ধ থাকায় অসুস্থ ও বয়স্ক ব্যক্তিরা তাদের চিকিৎসার খরচ এবং প্রয়োজনীয় ওষুধ কিনতে পারছেন না। এছাড়া চলমান পবিত্র রমজান মাসেও অর্থাভাবে তারা মানবেতর জীবনযাপন করছেন। নিত্যপণ্যের দামের উর্ধ্বগতির মধ্যে সরকারি এই সহায়তা বন্ধ থাকায় স্থানীয় সাধারণ মানুষের মাঝেও তীব্র অসন্তোষ বিরাজ করছে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক শেরপুর পৌরসভার সাবেক এক কমিশনার জানান, অফিসে ভাতার ফাইল সম্পূর্ণ প্রস্তুত থাকা সত্ত্বেও অজ্ঞাত কারণে পে-রোল পাঠানো হয়নি। ফলে অসহায় ভাতাভোগীরা সামান্য টাকার জন্য দিনের পর দিন সমাজসেবা অফিসে ধরণা দিয়েও কোনো সমাধান পাচ্ছেন না। প্রশাসনিক জটিলতার অজুহাতে তাদের বারবার ফিরিয়ে দেওয়া হচ্ছে বলে অভিযোগ রয়েছে।
পৌরসভার ৬ নম্বর ওয়ার্ডের ভুক্তভোগী মোকবুল ফকির, হাবিবুর রহমান ও মোছা. হাওয়া খাতুনসহ অনেকেই দ্রুত এই সমস্যার সমাধান চেয়েছেন। মোকবুল ফকির আক্ষেপ করে বলেন, ভাতা না পাওয়ায় তার নিয়মিত ওষুধ কেনা সম্ভব হচ্ছে না। তিনি উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে বকেয়া পরিশোধসহ দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণের জোর অনুরোধ জানিয়েছেন। ভুক্তভোগীরা মনে করেন, মানবিক দিক বিবেচনায় দ্রুত অর্থ ছাড় করা প্রয়োজন।
অন্যদিকে, উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা মো. নাঈম হোসেনের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি জানান, ইউনিয়ন পর্যায়ে ভাতা প্রদান কার্যক্রম স্বাভাবিক রয়েছে। তবে পৌরসভার ক্ষেত্রে ‘লাইভ ভেরিফিকেশন’ সংক্রান্ত কিছু কারিগরি জটিলতা দেখা দিয়েছে। একারণে সাময়িকভাবে কার্যক্রম বন্ধ রাখতে হয়েছে বলে তিনি দাবি করেন।
এই কর্মকর্তা আরও আশ্বস্ত করেন, ভেরিফিকেশন প্রক্রিয়া সম্পন্ন হলে শীঘ্রই সমস্যার সমাধান হবে। তিনি আশা প্রকাশ করেন, খুব দ্রুত সময়ের মধ্যে বকেয়া টাকাসহ সুবিধাভোগীদের একবারে ছয় মাসের ভাতা পরিশোধ করা সম্ভব হবে। তবে ভুক্তভোগীরা তার এই আশ্বাসে পুরোপুরি আস্থা রাখতে পারছেন না।
এ বিষয়ে বগুড়া জেলা সমাজসেবা কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক মো. আতাউর রহমান জানান, বিষয়টি তারা অবগত হয়েছেন। অভিযোগটি গুরুত্বের সাথে দেখা হচ্ছে এবং তদন্ত সাপেক্ষে সত্যতা পাওয়া গেলে অভিযুক্তের বিরুদ্ধে বিধি মোতাবেক প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।


