ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটকে কেন্দ্র করে বগুড়ার শেরপুরে ভোটকেন্দ্রগুলোতে বিশেষ নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে। ভোটকেন্দ্রের প্রধান ফটক থেকে শুরু করে প্রিজাইডিং কর্মকর্তার কক্ষ পর্যন্ত গড়ে তোলা হয়েছে নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তা বলয়। কড়া পাহারায় রয়েছেন পুলিশ ও অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা।
বুধবার (১১ ফেব্রুয়ারি) দুপুরের পর উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নের ভোটকেন্দ্র ঘুরে দেখা যায়, ভোটগ্রহণের বুথ ও কেন্দ্র প্রস্তুতে ব্যস্ত সময় পার করছেন প্রিজাইডিং কর্মকর্তা ও সংশ্লিষ্ট কর্মচারীরা। নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে কেন্দ্রের প্রবেশপথে কড়াকড়ি আরোপ করা হয়েছে, অনুমতি ছাড়া কাউকেই ভেতরে প্রবেশ করতে দেওয়া হচ্ছে না। কেন্দ্রভিত্তিক নিরাপত্তার পাশাপাশি প্রতিটি ইউনিয়নে থানা পুলিশের বিশেষ টিম সার্বক্ষণিক টহল ও নজরদারি বজায় রেখেছে।
উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তা জিয়াউর রহমান জানান, বগুড়া-৫ (শেরপুর-ধুনট) আসনের শেরপুর অংশে ১০টি ইউনিয়ন ও একটি পৌরসভায় মোট ৯৯টি ভোটকেন্দ্রের ৫৬৪টি বুথ প্রস্তুত করা হয়েছে। বুধবার দুপুরের মধ্যেই ব্যালট পেপারসহ সব নির্বাচনী উপকরণ প্রতিটি কেন্দ্রে পৌঁছে দেওয়া হয়েছে। স্বচ্ছতা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এবার প্রতিটি কেন্দ্রে সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপন করা হয়েছে, যার মাধ্যমে কেন্দ্রীয়ভাবে নজরদারি করা হচ্ছে।
বিকেলে উপজেলার বিশালপুর ইউনিয়নের পানিসাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে গিয়ে দেখা যায় বুথ তৈরির কাজ প্রায় শেষ। এই কেন্দ্রে ৪টি গ্রামের ২ হাজার ৪৬১ জন ভোটার ভোটাধিকার প্রয়োগ করবেন। একই ইউনিয়নের পেচুল উচ্চ বিদ্যালয় কেন্দ্রে দেখা যায়, প্রধান ফটকের সামনে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কঠোর অবস্থান। প্রিজাইডিং কর্মকর্তার কক্ষেও নেওয়া হয়েছে বিশেষ নিরাপত্তা ব্যবস্থা।

ভবানীপুর উচ্চ বিদ্যালয় কেন্দ্রের প্রিজাইডিং কর্মকর্তা ও উপজেলা ভেড়া উন্নয়ন খামারের ভেটেরিনারি সার্জন শাহিনুর রহমান জানান, তার কেন্দ্রে ৮টি গ্রামের মোট ৩ হাজার ৫৮৯ জন ভোটার রয়েছেন। ব্যালট পেপার সংরক্ষণ কক্ষ ও কেন্দ্রের সামগ্রিক নিরাপত্তায় সর্বোচ্চ সতর্কতা অবলম্বন করা হয়েছে। ভোটগ্রহণ শুরুর আগে প্রথা অনুযায়ী কোনো অননুমোদিত ব্যক্তি কেন্দ্রে প্রবেশ করতে পারবেন না।
এদিকে প্রশাসনের এমন কঠোর অবস্থানে সন্তোষ প্রকাশ করেছেন সাধারণ ভোটাররা। পেচুল গ্রামের ভোটার গোলাম কিবরিয়া ও পানিসাড়া গ্রামের সন্তোষ সরকার বলেন, বিগত নির্বাচনগুলোর তুলনায় এবার নিরাপত্তা অনেক বেশি জোরালো মনে হচ্ছে। নির্বাচনী সরঞ্জাম আসার পর থেকেই কেন্দ্রে সাধারণ মানুষের প্রবেশাধিকার বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে, যা সুষ্ঠু পরিবেশের জন্য সহায়ক।
উপজেলা প্রশাসন জানিয়েছে, শান্তিপূর্ণ পরিবেশে ভোটগ্রহণের লক্ষ্যে ৪ জন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটসহ সেনাবাহিনী ও বিজিবি সদস্যরা স্ট্রাইকিং ফোর্স হিসেবে মাঠে সক্রিয় রয়েছেন।


