বগুড়ার শেরপুরে জমি সংক্রান্ত বিরোধের জেরে একটি মামলার প্রধান সাক্ষীকে পিটিয়ে হত্যার অভিযোগ উঠেছে। ময়নাতদন্তের রিপোর্টে এটিকে হত্যাকা- হিসেবে উল্লেখ করা হলেও মামলার আসামিরা প্রকাশ্যে ঘুরে বেড়াচ্ছে এবং মামলা তুলে নিতে বাদীর পরিবারকে দেশত্যাগের হুমকি দিচ্ছে।
বুধবার (১৮ ফেব্রুয়ারি) বেলা ১টার দিকে শেরপুর উপজেলা প্রেসক্লাব কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে ভুক্তভোগী পরিবারের সদস্যরা এসব অভিযোগ করেন।
সংবাদ সম্মেলনে মো. আলতাফ আলী, নিহতের পুত্র মো. আশরাফুল ইসলাম, পুত্রবধূ মোছা. রঞ্জনা আক্তার এবং আলতাফ আলীর স্ত্রী মোছা. রাহেলা বেগম উপস্থিত ছিলেন।
আলতাফ আলী বলেন, উপজেলার শাহবন্দেগী ইউনিয়নের ঘোলাগাড়ী কলোনী এলাকায় তাদের পৈত্রিক ৮৬ শতক জমি নিয়ে স্থানীয় মো. নবাব আলী ও মোছা. মর্জিনা বেগম গংদের সঙ্গে দীর্ঘদিনের বিরোধ চলছিল। এই ভূমিদস্যুরা জমিটি অবৈধভাবে দখলের চেষ্টা চালালে বাদী পক্ষ বাধা দেয়। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে প্রতিপক্ষরা তাদের ওপর হামলা ও ঘরবাড়ি ভাঙচুর করে।
ওই ঘটনায় আলতাফ আলী বাদী হয়ে আদালতে একটি মামলা (মামলা নং ৬০৯ সি/২০২৪) দায়ের করেন। ওই মামলার প্রধান সাক্ষী ছিলেন তার বড় ভাই মো. ইয়াকুব আলী (৭২)।
লিখিত বক্তব্যে অভিযোগ করা হয়, ইয়াকুব আলী আদালতে সত্য সাক্ষ্য দিলে আসামিদের সাজা নিশ্চিত জেনে তাঁকে দুনিয়া থেকে সরিয়ে দেওয়ার পরিকল্পনা করে নবাব আলী গংরা। পরিকল্পনা অনুযায়ী, গত ৮ ডিসেম্বর ২০২৪ তারিখ সকাল সোয়া ৮টার দিকে বৃদ্ধ ইয়াকুব আলী যখন মাঠ থেকে কাজ শেষে খড় নিয়ে বাড়ি ফিরছিলেন, তখন নবার আলী ও মর্জিনা বেগমসহ তাদের ভাড়াটে সন্ত্রাসীরা তাঁর পথরোধ করে মারপিট করে এবং পরবর্তীতে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মারা যান।
এ ঘটনায় একটি হত্যা মামলা (মামলা নং ১৫৮ সি/২০২৫) দায়ের করা হলে ময়নাতদন্ত রিপোর্টে (পিএম নং: ৫৮৮/২৪) স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়েছে যে, নিহতের বুকের বাম পাশে পাঁজরের নিচে ভোঁতা অস্ত্রের বা কিল-ঘুষির গুরুতর আঘাতের ফলে প্রচুর জমাট রক্ত পাওয়া গেছে এবং চিকিৎসকরা এটিকে প্রকৃতিগতভাবে হত্যাকা- হিসেবে মত দিয়েছেন।
ভুক্তভোগীরা আক্ষেপ করে বলেন, ময়নাতদন্তে হত্যাকা- প্রমাণিত হওয়ার পরও আসামীরা মামলা তুলে নিতে এবং সপরিবারে দেশত্যাগের হুমকি দিচ্ছে। এতে পুরো পরিবার বর্তমানে চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছে। দ্রুত আসামিদের গ্রেপ্তার ও জানমালের নিরাপত্তার জন্য জেলা প্রশাসক ও পুলিশ সুপারসহ সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
এ প্রসঙ্গে শেরপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. ইব্রাহিম আলী বলেন, “ইয়াকুব আলী হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ইতিমধ্যেই মামলার চার্জশিট দেওয়া হয়েছে। আদালত থেকে আসামিদের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা ইস্যু হলেই তাদের গ্রেপ্তারে প্রয়োজনীয় আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হবে।”


