বগুড়ায় অত্যন্ত অস্বাস্থ্যকর ও নোংরা পরিবেশে লাচ্ছা সেমাই তৈরির অপরাধে দুটি কারখানাকে ১ লাখ ১৫ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে।
মঙ্গলবার (২৪ ফেব্রুয়ারি) বগুড়া সদরের বিভিন্ন এলাকায় যৌথ অভিযান চালিয়ে এই জরিমানা আদায় করে বাংলাদেশ নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষ ও জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর।
অভিযান সূত্রে জানা যায়, মঙ্গলবার দুপুরে বগুড়া সদরের আটা পাড়া এলাকায় অবস্থিত ইসলামিয়া লাচ্ছা সেমাই কারখানায় অভিযান চালান কর্মকর্তারা। সেখানে দেখা যায়, শ্রমিকরা হাত ব্যবহারের পরিবর্তে পায়ে মাড়িয়ে সেমাইয়ের ময়দার খামির তৈরি করছেন। এছাড়া সেমাই তৈরিতে পোড়া তেল, ডালডা এবং অনুমোদনহীন রাসায়নিক রং ব্যবহার করা হচ্ছে। এসব অপরাধে ইসলামিয়া লাচ্ছা সেমাই কারখানাকে ১ লাখ টাকা জরিমানা করা হয়।
একই দিন সদরের বৃন্দাবন পাড়া এলাকায় জেমি লাচ্ছা সেমাই কারখানায় অভিযান চালানো হয়। সেখানেও অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে খাদ্যপণ্য উৎপাদনের প্রমাণ মেলায় প্রতিষ্ঠানটিকে ১৫ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। দুটি প্রতিষ্ঠান মিলিয়ে মোট ১ লাখ ১৫ হাজার টাকা অর্থদণ্ড প্রদান করা হয়।
যৌথ এই অভিযানে নেতৃত্ব দেন বগুড়া জেলা নিরাপদ খাদ্য অফিসার মো. রাসেল এবং জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক মো. মেহেদি হাসান।
অভিযান প্রসঙ্গে কর্মকর্তারা জানান, জনস্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর উপায়ে খাদ্য উৎপাদন করায় এই শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। ভবিষ্যতে সরকারি সকল আইন ও বিধি মেনে নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোকে কঠোর নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
অভিযানে অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষের নমুনা সংগ্রহ সহকারী মো. শরীফুল ইসলাম, ভোক্তা অধিকারের অফিস সহকারী মো. আব্দুল কাদের এবং কনজ্যুমারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ক্যাব) বগুড়া জেলা সাধারণ সম্পাদক ফজিলাতুন্নেছা ফৌজিয়া। অভিযানের সার্বিক নিরাপত্তায় নিয়োজিত ছিল
জেলা পুলিশের একটি চৌকস দল।


