পাবনার সাঁথিয়া উপজেলার হাঁপানিয়া রামচন্দ্রপুর গ্রামে গর্ভধারিণী মাকে অমানবিক নির্যাতনের একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।
এ ঘটনায় অভিযুক্ত ছেলে, পুত্রবধূসহ পাঁচজনকে আটক করেছে পুলিশ ও সেনাবাহিনীর যৌথ দল।
শনিবার (৩০ আগস্ট) সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে সেনাবাহিনীর সহায়তায় তাদের নিজ বাড়ি থেকে আটক করে সাঁথিয়া থানা পুলিশ।
এর আগে নির্যাতিত বৃদ্ধার আরেক ছেলে ফজলুল হক বাদী হয়ে ছয়জনের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেন।
গ্রেফতারকৃতরা হলেন, মৃত মো: আবুল হোসেনের ছেলে নজরুল ইসলাম, তার স্ত্রী সোনালী খাতুন (৩৫), নজরুলের শ্যালক মনিরুজ্জামান টিপু, শ্যালিকা ফরিদা খাতুন ও মুর্শিদা খাতুন।
সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হওয়া ওই ভিডিওতে দেখা যায়, প্রথমে পুত্রবধূ সোনালী খাতুন তার শাশুড়ি ৭৫ বছর বয়সী কাঞ্চন খাতুনকে মাটিতে ফেলে মারধর করছেন। এরপর ছেলে নজরুল ইসলাম মায়ের গলা টিপে ধরে শূন্যে তুলে মাটিতে ফেলে দেন। এ সময় বৃদ্ধা মা চিৎকার করে কাঁদতে থাকেন।
এ ঘটনায় স্থানীয় ও সামাজিক মহল তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেন। এ বিষয়ে স্থানীয় প্রতিনিধি জয়নাল আবেদীন রানা বলেন, “নিজ মাকে এভাবে নির্যাতন করতে পারে, ভিডিওটি না দেখলে বিশ্বাস করা যেত না। আমরা ঘটনার সঙ্গে জড়িত সবার দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করছি।”
সাঁথিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রিজু তামান্না জানান, ভিডিওটি ছড়িয়ে পড়ার পর পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে যায়। তবে স্থানীয়দের বাধার মুখে পড়লে সেনাবাহিনীর একটি দল গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে এবং অভিযুক্তদের আটক করতে সক্ষম হয়।
সাঁথিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আনিসুর রহমান বলেন, বৃদ্ধা মাকে নির্যাতনের ঘটনায় ছেলে ও পুত্রবধূসহ পাঁচজনকে আটক করা হয়েছে। তাদের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে। তাদেরকে আদালতের মাধ্যমে জেল হাজতে প্রেরণ করা হবে।