অন্বেষণ ডেস্ক : বরগুনার পাথরঘাটায় হামলাকারীকে পিটিয়ে হত্যা করা হয়েছে। এক যুবকের হাত বিচ্ছিন্ন করে ফেলার ঘটনার জের ধরে অভিযুক্ত ব্যক্তিকে পিটিয়ে মেরেছেন স্থানীয় লোকজন। আজ শুক্রবার (১৩ ফেব্রুয়ারি) সকাল ১০টার দিকে উপজেলার রায়হানপুর ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ডে এই চাঞ্চল্যকর ঘটনাটি ঘটে।
নিহত ব্যক্তির নাম আবুল বাশার ওরফে সুজন (৩৮)। তিনি ওই ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা ছিলেন। স্থানীয় ইউপি সদস্য আসাদুজ্জামান সোহাগ মুঠোফোনে ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন। স্থানীয়দের ক্ষোভের বহিঃপ্রকাশ হিসেবে এই ঘটনা ঘটেছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
স্থানীয় সূত্র থেকে জানা যায়, গতকাল বৃহস্পতিবার রাতে রিয়াজ নামের এক যুবকের ওপর হামলা চালান বাশার। এ সময় তাকে কুপিয়ে ডান হাত শরীর থেকে বিচ্ছিন্ন করে ফেলা হয়। পাশাপাশি শরীরের বিভিন্ন স্থানেও আঘাত করা হয়। গুরুতর আহত অবস্থায় রিয়াজকে দ্রুত উদ্ধার করা হয়।
বর্তমানে ভুক্তভোগী যুবক বরিশালের শের–ই–বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। এই নৃশংস হামলার সংবাদ এলাকায় ছড়িয়ে পড়লে সাধারণ মানুষের মধ্যে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। গ্রামবাসী জোটবদ্ধ হয়ে বাশারের খোঁজ করতে থাকে।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, শুক্রবার সকালে ক্ষুব্ধ জনতা প্রথমে অভিযুক্ত আবুল বাশারের বাড়িতে হামলা ও ভাঙচুর চালায়। খবর পেয়ে তিনি বাড়িতে ফিরলে উপস্থিত উত্তেজিত জনতা তাঁকে ঘিরে ফেলে। গ্রামবাসীর ওপর বাশার পাল্টা আক্রমণের চেষ্টা করলে পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে ওঠে।
একপর্যায়ে উত্তেজিত জনতার গণপিটুনিতে সুজনের মাথা ও কানে মারাত্মক জখম হয়। ঘটনার পর প্রায় তিন ঘণ্টা তিনি বাড়ির উঠানেই পড়ে ছিলেন। ভয়ে বা ক্ষোভে তাঁকে উদ্ধারে কেউ এগিয়ে আসেনি। পরে খবর পেয়ে পুলিশ ও তাঁর বোন তাঁকে উদ্ধার করে পাথরঘাটা হাসপাতালে নিয়ে যান।
পাথরঘাটা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের কর্তব্যরত চিকিৎসকরা পরীক্ষা-নিরীক্ষা শেষে তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন। স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা নীলরতন সরকার জানান, নিহতের কপালে, কানে ও ডান পায়ে মারাত্মক জখম ছিল। এছাড়া তাঁর দুই চোখই খুঁচিয়ে নষ্ট করে দেওয়া হয়েছে।
স্থানীয় বাসিন্দারা নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, নিহত বাশারের বিরুদ্ধে চুরি, ডাকাতি ও সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের একাধিক অভিযোগ ছিল। তিনি বিভিন্ন সময়ে ভিন্ন ভিন্ন রাজনৈতিক দলের সাথে যুক্ত থেকে প্রভাব বিস্তারের চেষ্টা করতেন। এ কারণে স্থানীয়রা তাঁর বিরুদ্ধে কথা বলার সাহস পেতেন না।
এ বিষয়ে পাথরঘাটা থানার উপপরিদর্শক (এসআই) অশিত কুমার বলেন, খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে এবং বাশারকে উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠায়। সুরতহাল শেষে মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য বরগুনা জেনারেল হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। পুলিশ বিষয়টি তদন্ত করে দেখছে।
সূত্র: প্রথম আলো


