দীর্ঘ দেড় দশকের স্থবিরতা কাটিয়ে অবশেষে নতুন নেতৃত্ব পেল বগুড়ার শেরপুর উপজেলা ও পৌর ছাত্রদল। বুধবার (৭ জানুয়ারি) বগুড়া জেলা ছাত্রদল এই দুটি ইউনিটের আহ্বায়ক কমিটি ঘোষণা করে। ঘোষিত কমিটিতে আহসান হাবিব আরমানকে উপজেলা ছাত্রদলের আহ্বায়ক ও নাসিফ ওয়াহিদ প্রান্তকে পৌর ছাত্রদলের আহ্বায়ক মনোনীত করা হয়েছে।
দলীয় সূত্রে জানা যায়, শেরপুর উপজেলা ও পৌর ছাত্রদলের সর্বশেষ কমিটি গঠিত হয়েছিল ২০১০ সালে। দ্বিবার্ষিক ওই কমিটির মেয়াদ শেষ হওয়ার পর দীর্ঘ ১৫ বছর নতুন কোনো কমিটি না হওয়ায় সাংগঠনিক কার্যক্রমে কিছুটা স্থবিরতা নেমে এসেছিল। অবশেষে বুধবার বেলা ১১টায় বগুড়া জেলা ছাত্রদলের সভাপতি হাবিবুর রশিদ সন্ধান ও সাধারণ সম্পাদক এম আর হাসান পলাশ স্বাক্ষরিত বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে এই নতুন কমিটি অনুমোদন দেওয়া হয়।
ঘোষিত কমিটিতে ৮৫ সদস্যবিশিষ্ট শেরপুর উপজেলা ছাত্রদলের আহ্বায়ক হয়েছেন আহসান হাবিব আরমান এবং সদস্য সচিব করা হয়েছে মো: সাহদৎ হোসেনকে। কমিটিতে সিনিয়র যুগ্ম-আহ্বায়ক হিসেবে রয়েছেন রাফি-আল-আমিন।
অন্যদিকে, ৪০ সদস্যবিশিষ্ট শেরপুর পৌর ছাত্রদলের আহ্বায়ক হয়েছেন নাসিফ ওয়াহিদ প্রান্ত এবং সদস্য সচিব মনোনীত হয়েছেন রাকিবুল হাসান রাব্বি। এই ইউনিটে সিনিয়র যুগ্ম-আহ্বায়ক করা হয়েছে মিনহাজ আহমেদ মিথুনকে।
দীর্ঘদিন পর কমিটি গঠন প্রসঙ্গে দলীয় নেতারা জানান, বিগত ফ্যাসিস্ট সরকারের আমলে বিরোধী মতের ওপর ব্যাপক দমন-পীড়ন ও নির্যাতনের কারণে নির্দিষ্ট সময়ে কমিটি গঠন করা সম্ভব হয়নি। নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে অসংখ্য মিথ্যা মামলা ও কারাভোগের কারণে সাংগঠনিক প্রক্রিয়া বাধাগ্রস্ত হয়েছিল। তবে বর্তমান প্রেক্ষাপটে দলকে সুসংগঠিত করতে এই নতুন নেতৃত্ব গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।
নবগঠিত উপজেলা ও পৌর কমিটিকে আগামী ১৫ দিনের মধ্যে উপজেলার ১০টি ইউনিয়ন এবং পৌরসভার ৯টি ওয়ার্ডে ছাত্রদলের পূর্ণাঙ্গ কমিটি গঠনের নির্দেশনা দিয়েছে জেলা ছাত্রদল। সেই নির্দেশনা মোতাবেক ইতিমধ্যেই সাংগঠনিক কার্যক্রম শুরু করেছেন দায়িত্বপ্রপ্ত নেতারা।
নতুন দায়িত্ব পাওয়ার পর তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়ায় উপজেলা ছাত্রদলের নবনির্বাচিত আহŸায়ক আহসান হাবিব আরমান বলেন, “দীর্ঘদিন পর এই কমিটি হওয়ায় তৃণমূলের নেতাকর্মীদের মাঝে প্রাণচাঞ্চল্য ফিরে এসেছে। আমাদের লক্ষ্য দলকে সাংগঠনিকভাবে আরও গতিশীল করা। আগামী ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর শেরপুর উপজেলা ও পৌর ছাত্রদলের পূর্ণাঙ্গ কমিটি গঠন করা হবে।”


