অন্বেষণ ডেস্ক : দীর্ঘ তিন দশক পর রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের মাধ্যমে গোপালগঞ্জে শেখ হাসিনার আসনে জয়লাভ করেছেন বিএনপির প্রার্থী এস এম জিলানী। বৃহস্পতিবার (১২ ফেব্রুয়ারি) দিবাগত রাতে জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তা ও জেলা প্রশাসক মো. আরিফ-উজ-জামান আনুষ্ঠানিকভাবে এই ফলাফল ঘোষণা করেন। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জেলার তিনটি আসনেই বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) প্রার্থীরা বিপুল ভোটে বিজয়ী হয়েছেন।
সাবেক প্রধানমন্ত্রীর সংসদীয় আসন গোপালগঞ্জ-৩ (টুঙ্গিপাড়া-কোটালীপাড়া) বরাবরই আওয়ামী লীগের শক্তিশালী ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত ছিল। এই আসনে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী এস এম জিলানী ৬০ হাজার ১৬৬ ভোট পেয়ে বেসরকারিভাবে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন। তার এই বিজয় জেলার রাজনীতিতে একটি ঐতিহাসিক ঘটনা হিসেবে চিহ্নিত হচ্ছে।
এস এম জিলানীর নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী ছিলেন হিন্দু মহাজোটের নেতা গোবিন্দ চন্দ্র প্রামাণিক। তিনি মোট ৩৩ হাজার ৮৬৭ ভোট পেয়েছেন। শেখ হাসিনার পৈত্রিক নিবাস ও রাজনৈতিক কেন্দ্রবিন্দুতে বিএনপির এই ফলাফলকে রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছেন।
অন্যদিকে, গোপালগঞ্জ-১ আসনেও পরিবর্তনের হাওয়া লেগেছে বেশ জোরালোভাবে। সেখানে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী সেলিমুজ্জামান মোল্যা ৬৮ হাজার ৮৬৭ ভোট পেয়ে বিজয়ী হয়েছেন। তার বিপরীতে গণঅধিকার পরিষদের প্রার্থী মো. কাবির মিয়া ৫৩ হাজার ৯৬১ ভোট পেয়ে দ্বিতীয় স্থানে রয়েছেন। ভোটারদের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ এই পরিবর্তনকে ত্বরান্বিত করেছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
এছাড়া গোপালগঞ্জ-২ আসনে জয়ের হাসি হেসেছেন বিএনপির কে এম বাবর। তিনি পেয়েছেন ৪০ হাজার ৪৮ ভোট। এই আসনে তার প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী ছিলেন বিএনপিরই বিদ্রোহী প্রার্থী এম এইচ খান মঞ্জু, যিনি পেয়েছেন ৩৩ হাজার ৩৯ ভোট। উল্লেখ্য, এবারের নির্বাচনে আওয়ামী লীগ অংশ না নেওয়ায় লড়াইটি মূলত বিএনপি ও তাদের সমমনাদের মধ্যেই সীমাবদ্ধ ছিল।
এর আগে ১৯৯৬ সালের ১৫ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে গোপালগঞ্জ-১ থেকে বিএনপির এফ ই শরফুজ্জামান একবার জয়ী হয়েছিলেন। তবে এবারের ফলাফলকে জেলার ইতিহাসে বিএনপির সবচেয়ে বড় সাংগঠনিক সাফল্য হিসেবে দেখা হচ্ছে। ভোটারদের দীর্ঘদিনের আকাঙ্ক্ষার প্রতিফলন ঘটেছে বলে স্থানীয় বিএনপি নেতারা মন্তব্য করেছেন।
নির্বাচনী ফলাফল ঘোষণার পরপরই জেলা বিএনপি ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা আনন্দ মিছিল বের করেন। জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, পুরো নির্বাচনী প্রক্রিয়া শান্তিপূর্ণ ছিল এবং কোনো বড় ধরনের গোলযোগ ছাড়াই ভোটগ্রহণ সম্পন্ন হয়েছে। বিজয়ী প্রার্থীরা ভোটারদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে এলাকার উন্নয়নের পাশাপাশি সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বজায় রাখার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন।
সূত্র: ইত্তেফাক


