ঠাকুরগাঁও জেলা জামায়াতের আমির বেলাল উদ্দিন প্রধানকে পরিকল্পিতভাবে আটক করা হয়েছে বলে দাবি করেছে জামায়াতে ইসলামী। দলটির সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল ও প্রচার ও মিডিয়া বিভাগের প্রধান অ্যাডভোকেট এহসানুল মাহবুব জুবায়ের বলেন, পুরো ঘটনাটি একটি ‘নাটক’ সাজিয়ে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে ঘটানো হয়েছে।
বুধবার (১১ ফেব্রুয়ারি) রাজধানীর মগবাজারে জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আয়োজিত এক জরুরি সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ অভিযোগ করেন।
সংবাদ সম্মেলনে মাহবুব জুবায়ের বলেন, বেলাল উদ্দিন প্রধান তার ব্যবসার অর্থ বহন করছিলেন। অথচ আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কিছু সদস্য ইচ্ছাকৃতভাবে পরিস্থিতি তৈরি করে তাকে আটক করেছেন। টাকার উৎস নিয়ে যে প্রশ্ন তোলা হচ্ছে, সে বিষয়ে সময়মতো প্রমাণসহ বিস্তারিত জানানো হবে বলেও জানান তিনি।
জামায়াতের এই নেতা আরও বলেন, ঢাকা আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের ডোমেস্টিক টার্মিনাল থেকে যাত্রার সময় নিরাপত্তা কর্মকর্তারা বেলাল উদ্দিন প্রধানকে অনাপত্তিপত্র দেন। এমনকি বিমানবন্দরের নির্বাহী পরিচালকের দেওয়া অনাপত্তিপত্র তার সঙ্গে থাকা সত্ত্বেও তাকে আটক করা হয়। পরে সৈয়দপুর পৌঁছানোর পর তাকে সেখানে হেনস্থার শিকার হতে হয় বলেও অভিযোগ করেন তিনি।
এ বিষয়ে শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের নির্বাহী পরিচালক গ্রুপ ক্যাপ্টেন রাগিব সামাদ জানান, সৈয়দপুরে আটক জামায়াত নেতার সঙ্গে থাকা অর্থের বিষয়টি কাস্টমস কর্তৃপক্ষকে জানানো হলে তারা এতে অনাপত্তি প্রকাশ করেন।
এর আগে বুধবার বেলা ১১টার দিকে সৈয়দপুর বিমানবন্দরে ৫০ লাখ টাকাসহ বেলাল উদ্দিন প্রধানকে আটক করা হয়। জিজ্ঞাসাবাদে তিনি স্বীকার করেন, তার সঙ্গে ৫০ লাখ টাকার বেশি অর্থ ছিল। তবে তিনি দাবি করেন, ওই অর্থ তার ব্যবসার টাকা এবং তিনি গার্মেন্টস ব্যবসার সঙ্গে সম্পৃক্ত।
বেলাল উদ্দিন প্রধান জানান, তার বাড়ি ঠাকুরগাঁও সদরের হাজিপাড়ায়। তিনি পেশায় ঠাকুরগাঁওয়ের সালন্দর কলেজের শিক্ষক। তার বাবার নাম দবিরুল।
অন্যদিকে, নীলফামারীর পুলিশ সুপার শেখ জাহিদুল ইসলাম বলেন, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে জানা যায় যে, ইউএস-বাংলা এয়ারলাইন্সের একটি ফ্লাইটে করে বেলাল উদ্দিন প্রধান ঢাকা থেকে ঠাকুরগাঁও যাচ্ছিলেন এবং তার সঙ্গে বিপুল পরিমাণ অর্থ রয়েছে। এই তথ্য পাওয়ার পর বিমানবন্দরে গোয়েন্দা সংস্থাসহ বিভিন্ন বাহিনী ব্যবস্থা নেয় এবং পরে তাকে আটক করা হয়।


