নিজস্ব প্রতিবেদক : বগুড়ার শেরপুর উপজেলায় প্রথাগত চলাচলের একমাত্র রাস্তা দখল হয়ে যাওয়ায় একটি গ্রামের মানুষ কার্যত অবরুদ্ধ হয়ে পড়েছেন। রাস্তা নিয়ে বিরোধের জেরে এলাকায় চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে এবং বিষয়টি মারধর ও প্রাণনাশের হুমকি পর্যন্ত গড়িয়েছে। এ ঘটনায় গত ৭ এপ্রিল শেরপুর থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করা হয়েছে।
ঘটনাটি ঘটেছে উপজেলার সীমাবাড়ী ইউনিয়নের কালিয়াকৈর চকগোলাম এলাকায়। স্থানীয়রা জানান, ব্রিটিশ আমলে নির্মিত একটি সড়ক দীর্ঘদিন ধরে গ্রামবাসীদের প্রধান যাতায়াত পথ হিসেবে ব্যবহৃত হয়ে আসছিল। কিন্তু সম্প্রতি কালিয়াকৈর চকগোলাম মৌজার সাবেক ১১০ ও বর্তমান ৪৪০ নম্বর দাগের এই সড়কটি দখল করে ফেলায় সাধারণ মানুষের যাতায়াত বন্ধ হয়ে গেছে।
সরেজমিনে জানা গেছে, সড়কটির পশ্চিমাংশে একজন প্রভাবশালী ব্যক্তি পুকুর খনন করে রাস্তার একাংশ দখল করে নিয়েছেন। অন্যদিকে, পশ্চিম প্রান্ত থেকে বেটখর-কালিয়াকৈর মূল সড়ক পর্যন্ত প্রায় ১৮০ ফুট জায়গা যৌথ মালিকানাধীন হলেও সেখানে যাতায়াত বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। এর ফলে শিশু, শিক্ষার্থী ও কৃষকদের যাতায়াতসহ রোগী নিয়ে হাসপাতালে যাওয়ার মতো জরুরি কাজও বন্ধ হয়ে পড়েছে। এলাকাবাসীর দুর্ভোগ লাঘবে যুক্তরাষ্ট্রপ্রবাসী মো. রহমতুল বারী তার তিন শতাংশ জমি ইউনিয়ন পরিষদের নামে রেজিস্ট্রি করে দিলেও পুরোনো রাস্তা দখলমুক্ত না হওয়ায় নতুন উদ্যোগটি কার্যকর করা যাচ্ছে না।
এদিকে রাস্তা ব্যবহারকে কেন্দ্র করে হামলার শিকার হয়ে কে. এম. জহুরুল হক (৬২) থানায় জিডি করেছেন। তিনি অভিযোগ করেন, প্রতিবেশী ও অংশীদাররা তাকে চলাচলে বাধা দিচ্ছে এবং গালিগালাজসহ প্রাণনাশের হুমকি প্রদান করছে। তিনি দ্রুত এই সমস্যা সমাধানে প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেন।
তবে অভিযুক্তদের অন্যতম নবীর উদ্দিনের দাবি, রাস্তাটি নিয়ে আদালতে মামলা চলমান রয়েছে এবং আদালতের রায় অনুযায়ী তারা পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেবেন।
সীমাবাড়ী ইউনিয়ন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান নূর মোহাম্মদ সরকার জানান, বিষয়টি নিয়ে একাধিকবার বৈঠক করেও সমাধান হয়নি। স্থানীয়ভাবে মিমাংসা না হওয়ায় এখন উপজেলা প্রশাসনের মাধ্যমে সমাধানের চেষ্টা চলছে।
শেরপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. সাইদুজ্জামান হিমু বলেন, “বিষয়টি আমরা গুরুত্বের সাথে দেখছি। যাতায়াতের পথ বন্ধ করে জনদুর্ভোগ সৃষ্টি করা আইনত দণ্ডনীয়। স্থানীয়ভাবে সমাধান না হলে তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”


