অন্বেষণ

দেশ-বিদেশের সর্বশেষ বাংলা সংবাদ

Sponsored Link

বগুড়ার শেরপুরে জালিয়াতি করে বন্ধকী জমি রেজিস্ট্রি

অন্বেষণ ডেস্ক
অন্বেষণ ডেস্ক
|
প্রকাশিত: ২৮ মে, ২০২৪
|
পড়ার সময়: ১০ মিনিট
অক্ষরের আকার:

বগুড়ার শেরপুরে দীর্ঘদিন যাবৎ বিভিন্ন অনিয়ম দূর্নীতি ও জালিয়াতি চলছে সাব রেজিস্ট্রি অফিসে। দলিল লেখক সমিতিকে ম্যানেজ করে ভুয়া নামজারি, ভুয়া ওয়ারিশান সার্টিফিকেট ব্যবহারের পাশাপাশি ব্যাংকে বন্ধক রাখা জমিও জালিয়াতির মাধ্যমে রেজিস্ট্রি করা হচ্ছে।

গত ২০২৩ সালের ৩ জুলাই মূল কাগজপত্র ছাড়াই এমন এক বন্ধকী জমি বিক্রয় দলিল রেজিস্ট্রেশন করা হয়েছে। ক্রেতার নামে নামজারিও সম্পন্ন হয়েছে। তবে বিক্রেতার দাবি তিনি জমি বিক্রি করেননি। ক্রেতা ও সাব-রেজিস্ট্রি অফিস তার সাথে জালিয়াতি করেছে। এর বিরুদ্ধে থানায় অভিযোগ করেছেন তিনি।

Sponsored Link

জানা গেছে, শেরপুর পৌর শহরের পুলক চন্দ্র দত্ত (৮৪) দত্তপাড়ায় তার বাড়িতে বসবাস করেন। ছেলে দিবাকর দত্তের আর্থিক সমস্যার কারনে বাড়িটি পূবালী ব্যাংক শেরপুর শাখায় বন্ধক রেখে ২০ লক্ষ টাকা ঋণ নেন। গত ২০২৩ সালের ৫ জানুয়ারী এ সংক্রান্ত একটি বন্ধকী দলিল নিবন্ধিত হয়েছে শেরপুর সাব-রেজিস্ট্রি অফিসে।

নিয়ম অনুযায়ি বন্ধকী দলিল সহ ওই বাড়ির সকল মূল কাগজপত্র ব্যাংকের কাছে আছে। কিন্তু একই বছর ৩ জুলাই প্রতিবেশি আকাশ দত্তের কাছে বাড়িটি বিক্রি করেন পুলক দত্ত। ক্রেতা আকাশ দত্ত নামজারিও সম্পন্ন করেছেন।

Sponsored Link

বিষয়টি জানতে পেরে গত ২২ অক্টোবর নামজারি বাতিল করার জন্য শেরপুর উপজেলা সহকারী কমিশনারের (ভূমি) কাছে আবেদন করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন পূবালী ব্যাংক পিএলসি শেরপুর শাখার ব্যবস্থাপক হুমায়ুন কবীর তালুকদার।

হুমায়ুন কবীর বলেন, নিয়ম অনুযায়ি জমিটির বন্ধকী দলিল নিবন্ধন করা হয়েছে। আমাদের কাছে জমির মূল কাগজ থাকা সত্বেও কিভাবে বিক্রয় নিবন্ধন করা হয়েছে তা বোধগম্য নয়। আমরা জমির নামজারি ও দলিল বাতিলের জন্য এবং অপরাধীদের বিরুদ্ধে আইনগত প্রক্রিয়া শুরু করেছি।

Sponsored Link

তবে জমি বিক্রির কথা অস্বীকার করেছেন পুলক দত্ত। তিনি বলেন, তার ছেলে ২০২২ সালে আকাশ দত্তর কাছ থেকে ৩ লাখ ৬০ হাজার টাকা ঋণ গ্রহন করেন। এসময় তিনি নিজের ও ছেলের স্বাক্ষরিত ফাঁকা স্ট্যাম্প ও ব্যাংকের চেক, জাতীয় পরিচয় পত্রের ফটোকপি এবং ছবি জমা দিয়েছেন।

এরপর পুলক দত্ত আকাশের কাছে আবারও টাকা ধার চান। টাকা ধার দেওয়ার কথা বলে আকাশ তাকে সাব-রেজিস্ট্রি অফিসে ডেকে নিয়ে কিছু স্ট্যাম্পে স্বাক্ষর নেয়। কয়েকদিন পর তিনি জানতে পারেন আকাশ দত্ত তার কাছ থেকে ৩২ লাখ টাকায় বাড়ি কিনে নিয়েছে। এই জালিয়াতির প্রতিকার ও স্বাক্ষরিত স্ট্যাম্প ও ব্যাংকের চেক ফেরৎ চেয়ে গত ১৭ মে পুলক থানায় অভিযোগ করেছেন।

Sponsored Link

পুলক দত্ত বলেন, আমার কাছ থেকে বিভিন্ন জায়গায় স্বাক্ষর নেওয়া হলেও বাড়ি বিক্রির কথা বলা হয়নি। কিছু দিন পরে আকাশ আমাকে কিছু টাকা দিয়ে জানায় সে আমার কাছ থেকে বাড়ি কিনে নিয়েছে। সে আমার ছেলের ব্যাংক লোন পরিশোধের কথাও বলেছিলো। কিন্তু এখনও করেনি। এখন ব্যাংক বাড়ি নিলামে বিক্রির কথা বলছে। সাবরেজিস্ট্রার ও আকাশ দত্ত আমার সাথে প্রতারনা করেছে।

বক্তব্য:

এ বিষয়ে আকাশ দত্ত বলেন, আমি সঠিক নিয়ম অনুসরণ করেই জমি কিনেছি।

Sponsored Link

ব্যাংকে বন্ধকী জমির দলিল নিবন্ধনের বিষয়ে জানতে চাইলে শেরপুর উপজেলা সাব-রেজিস্টার মিজানুর রহমান বলেন, এ বিষয়ে তদন্ত চলছে। তাই কোন মন্তব্য করতে পারব না।

শেরপুর উপজেলা সহকারি কমিশনার (ভূমি):

এ বিষয়ে শেরপুর উপজেলা সহকারি কমিশনার (ভূমি) এসএম রেজাউল করিম বলেন, সম্পত্তি হস্তান্তর আইন ১৮৮২ অনুযায়ী ব্যাংকে বন্ধকী সম্পত্তি হস্তান্তর যোগ্য নয়। নীতিমালা অনুযায়ী ব্যাংকের দায়বদ্ধতা এড়াতে ঋণ গ্রহনের সময় ব্যাংকের অনুক’লে যে বন্ধককৃত সম্পত্তির রেজিস্ট্রিকৃত দলিল তা ঋণ পরিশোধের পর বাতিল করা বাধ্যতামূলক। ব্যাংক কর্তৃপক্ষের আবেদনের প্রেক্ষিতে ওই জমিটির নামজারি বাতিলের প্রক্রিয়া চলমান আছে।

Sponsored Link
বগুড়া রেজিস্ট্রার (ভারপ্রাপ্ত):

এ বিষয়ে বগুড়া রেজিস্ট্রার (ভারপ্রাপ্ত) জাহাঙ্গীর আলম বলেন, ব্যাংকে বন্ধক রাখা সম্পত্তির বিক্রয় দলিল নিবন্ধন করা বেআইনী। এ বিষয়ে লিখিত অভিযোগ পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

ট্যাগসমূহ
Sponsored Link

পাঠক মন্তব্য (টি মন্তব্য)

✓ আপনার মন্তব্য অনতিবিলম্বে প্রকাশ করা হবে ও সঞ্চিত থাকবে।

প্রথম পাঠক হিসেবে মতামত দিন

Sponsored Link