বগুড়ার শেরপুরে ধান ব্যবসায়ী হামিদুল মন্ডলের হত্যার রহস্যের জট খুলেছে। নিজস্ব জমিজমার কারণেই তাকে হত্যার শিকার হতে হয়েছে এমন তথ্য পেয়েছে থানা পুলিশ। আর এই হত্যার সাথে জড়িত রয়েছে নিহতের দুই ভাইয়ের দুই ছেলে। পুলিশ তাদের এই হত্যা মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়েছে। আজ মঙ্গলবার (১৩ জানুয়ারি) তাদের আদালতে নেওয়া হবে।
থানা পুলিশ সূত্র জানায় নিহত হামিদুল মন্ডলের দুই ভাইয়ের দুই ছেলেকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য গতকাল সোমবার (১২ জানুয়ারি) বিকালে পুলিশ থানায় নেয়। সন্ধ্যায় থানায় তাদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। এসময় তারা পুলিশের কাছে স্বীকার করে তাদের চাচা হামিদুল মন্ডলকে তারাই হত্যা করেছে। এরপর তাদেরকে এই হত্যা মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হয়।
গ্রেপ্তারকৃত ওই দুইজন হলেন নিহত হামিদুল মন্ডলের ভাই ফেরদৌস আলীর ছেলে রাকিবুল হাসান ওরফে সিয়াম (১৬) ও আরেক ভাই গোলাম মোস্তফার ছেলে আতিক হাসান (২১)। রাকিবুল হাসান স্থানীয় একটি বিদ্যালয়ের দশম শ্রেণীর ছাত্র এবং আতিক হাসান গত বছরে মাধ্যমিক পরীক্ষা দিয়েছে।
থানা পুলিশ সূত্র জানায়, এই হত্যার সাথে ওই দুই যুবক নিজেদের জড়িত থাকার কথা স্বীকারের পর এই হত্যায় এবং লাশ স্থানান্তরে কি ব্যবহার করা হয়েছে তা জানায়।
পরে তাদের তথ্য মতে সোমবার (১২ জানুয়ারি) রাতে এই হত্যার ব্যবহৃত একটি রশি ও লাশ স্থানান্তরের জন্য ব্যবহৃত একটি মই তাদের দেখানোর জায়গা থেকে পুলিশ উদ্ধার করেছে।
মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা শেরপুর থানা পুলিশের উপপরিদর্শক (এসআই) সাঈফ আহমেদ প্রথম আলোকে বলেন, গত রোববার (১১ জানুয়ারি) সকালে উপজেলার ভবানীপুর ইউনিয়নের জামালপুর সড়কের পাশে একটি জমির ওপর থেকে হামিদুল মন্ডলের লাশ উদ্ধার করা হয়। এই জমিটি ছিল হামিদুল মন্ডলের নিজস্ব জমি। এ ঘটনা নিহতের স্ত্রী মোছাঃ রাফিয়া বেগম অজ্ঞাতনামা আসামিদের বিরুদ্ধে থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন।
মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা এই উপপরিদর্শক আরো বলেন, গ্রেপ্তারকৃত হামিদুল মন্ডলের ওই দুই ভাতিজা জিজ্ঞাসাবাদে পুলিশের কাছে এই হত্যার সাথে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করে জানায় তাদের চাচা হামিদুল মন্ডল তিনটি বিবাহ করেছেন। পূর্বের দুইটি স্ত্রী তালাকপ্রাপ্ত। দ্বিতীয় স্ত্রীর পক্ষের একটি কন্যা সন্তান রয়েছে। তৃতীয় পক্ষ হিসেবে চাচা হামিদুল মন্ডল রাফিয়া খাতুনকে বিবাহ করেন। হামিদুল মন্ডলের নিজস্ব জমি রয়েছে ১০ বিঘা। হামিদুল মন্ডলের তৃতীয় স্ত্রীর গর্ভ থেকে কোন সন্তান এলে চাচার (হামিদুল মন্ডল) সম্পত্তি তাদের কাছ থেকে হাতছাড়া হয়ে যাবে। এই কারণে চাচার জমির কেউ ভাগ যেন না পায় এজন্যই তারা হামিদুল মন্ডলকে হত্যার পরিকল্পনা করে।
পরিকল্পনা অনুযায়ী গত শনিবার (১০ জানুয়ারি) রাত ৯ টায় তাদের বাড়ির পিছনে হামিদুল মন্ডলকে ডেকে নিয়ে গিয়ে গলায় রশি পেঁচিয়ে শ্বাসরোধ করে হত্যা করে। এরপর ওই রাতেই লাশটি মইয়ের উপরে তুলে গ্রামের সড়কের পাশে জমির উপরে ফেলে রেখে আসে। আজ মঙ্গলবার তাদেরকে বগুড়ার আদালতে নেওয়া হবে।
এ নিয়ে শেরপুর থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) জয়নুল আবেদীন বলেন, ধান ব্যবসায়ী হামিদুল মন্ডলের হত্যার একদিন পরেই পুলিশের অনুসন্ধানে হত্যার রহস্যের জট খুলেছে। এই হত্যার সাথে ওই দুই যুবক ছাড়াও আর কেউ জড়িত রয়েছে কিনা তা নিয়েও পুলিশের তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।


