বরিশালের মুলাদীতে জৈতিমনি (১৫) নামের এক স্কুলছাত্রীর ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। গতকাল মঙ্গলবার রাতে মুলাদী পৌর সদরের বেইলি ব্রিজ (নগর) এলাকা থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়। পরিবার সূত্রে জান গেছে, মোবাইল ফোন ব্যবহার নিয়ে মায়ের নিষেধাজ্ঞায় অভিমান করে আত্মহত্যা করেছে জৈতিমনি।
জৈতিমনি গোপালগঞ্জের কোটালীপাড়া উপজেলার নৈয়ারবাড়ী গ্রামের মৃত রিপন রায়ের মেয়ে। তার মা ঝুমা সরকার মুলাদী সরকারি মাহমুদজান মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক। ওই বিদ্যালয় থেকেই চলতি বছর জৈতিমনির এসএসসি পরীক্ষায় অংশ নেওয়ার কথা ছিল।
পরিবার সূত্রে জানা যায়, মঙ্গলবার সন্ধ্যায় প্রাইভেট পড়ে কিছুটা দেরিতে বাসায় ফেরে জৈতিমনি। রাত ৯টার দিকে পড়তে না বসে সে মোবাইল ফোন দেখতে শুরু করলে মা পড়াশোনায় মনোযোগ দিতে বলেন। এ সময় জৈতিমনি ক্ষুব্ধ হয়ে নিজের কক্ষের দরজা বন্ধ করে দেয়। রাত সাড়ে ৯টার দিকে খাবারের জন্য ডাকাডাকি করেও সাড়া না পেয়ে দরজার ফাঁক দিয়ে মেয়েকে ঝুলন্ত অবস্থায় দেখতে পান মা।
জৈতিমনির মা ঝুমা সরকার বলেন, বাবার মৃত্যুর পর থেকে মেয়ে মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছিল। মাঝেমধ্যে সে বাবার কাছে চলে যাওয়ার কথা বলত। খবর পেয়ে রাত ১০টার দিকে মুলাদী থানা-পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করে।
মুলাদী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আরাফাত জাহান চৌধুরী জানান, প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, মায়ের সঙ্গে অভিমান থেকেই ওই স্কুলছাত্রী আত্মহত্যা করেছে। এ ঘটনায় থানায় অপমৃত্যু মামলা করা হয়েছে। বুধবার সকালে মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে।


