অন্বেষণ ডেস্ক : জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখপাত্র ও কেন্দ্রীয় নির্বাচন পরিচালনা কমিটির প্রধান আসিফ মাহমুদ সজীব ভুঁইয়া বলেছেন, একটি সত্যিকারের ফ্যাসিবাদমুক্ত বাংলাদেশ গড়ে তুলতে আসন্ন গণভোটে ‘হ্যাঁ’ জয়যুক্ত করা জরুরি। বুধবার (২৮ জানুয়ারি) ব্রাহ্মণবাড়িয়ার পৌর মুক্তমঞ্চ ও সরাইল উপজেলা সদরে আয়োজিত পৃথক দুটি নির্বাচনী জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ মন্তব্য করেন।
তিনি জোর দিয়ে বলেন, যারা সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার পতনে ব্যথিত হয়েছে, তারাই মূলত দেশে পুনরায় ফ্যাসিবাদ কায়েম করার ষড়যন্ত্রে লিপ্ত। সুশাসন, সংস্কার ও সার্বভৌমত্ব প্রতিষ্ঠার সুনির্দিষ্ট লক্ষ্য নিয়ে ১১ দলীয় জোট এই নির্বাচনী সভার আয়োজন করে।
আসিফ মাহমুদ তার বক্তব্যে উল্লেখ করেন, ফ্যাসিবাদ থেকে দেশকে মুক্ত করার ঐতিহাসিক আন্দোলনে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সাধারণ মানুষের সাহসী ভূমিকা জাতি চিরকাল স্মরণ রাখবে। একটি উজ্জ্বল ও গণতান্ত্রিক ভবিষ্যৎ নির্মাণের স্বার্থে ১১ দলীয় জোট বর্তমানে ঐক্যবদ্ধ হয়েছে।
তাই আগামী ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে জোটের প্রার্থীদের বিজয়ী করার জন্য তিনি স্থানীয় ভোটারদের প্রতি উদাত্ত আহ্বান জানান। তিনি মনে করেন, ভোটের মাধ্যমেই জনগণ তাদের কাঙ্ক্ষিত পরিবর্তনের সূচনা করতে পারবে।
ধর্মীয় সম্প্রদায়ের দীর্ঘদিনের বঞ্চনার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, অতীতে আলেম-ওলামাদের দমন-পীড়নের মাধ্যমে একটি বিশাল জনগোষ্ঠীকে রাষ্ট্রের মূলধারার বাইরে রাখা হয়েছিল। তবে বর্তমান অন্তর্বর্তী সরকার দায়িত্ব গ্রহণের পর প্রেক্ষাপট পরিবর্তিত হয়েছে।
হেফাজত আন্দোলন ও আধিপত্যবাদবিরোধী আন্দোলনে যারা শহীদ হয়েছেন, তাদের রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি প্রদানের বিষয়টি এখন গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা হচ্ছে। এই পদক্ষেপ নিহতদের পরিবারের প্রতি রাষ্ট্রের দায়বদ্ধতার প্রমাণ বহন করে।
অন্যদিকে, ১১ দলীয় জোট সরকার গঠন করতে পারলে কওমি মাদরাসার শিক্ষার্থীদের জন্য বিশেষ পরিকল্পনা গ্রহণ করা হবে। তাদের জন্য শিক্ষা, ইসলামিক গবেষণা, আধুনিক ব্যাংকিং, গণমাধ্যম ও প্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণসহ কর্মসংস্থানের ব্যাপক সুযোগ তৈরি করা হবে বলে তিনি প্রতিশ্রুতি দেন।
জাতীয় পে স্কেল কমিশনের প্রসঙ্গ টেনে তিনি জানান, ১১ দলীয় জোট পে স্কেল বাস্তবায়নের পক্ষে দৃঢ় অবস্থান নিয়েছে। ভবিষ্যতে সরকার গঠিত হলে ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানে কর্মরত ব্যক্তিদেরও এই পে স্কেলের আওতায় নিয়ে আসা হবে। এতে তাদের জীবনমানের উল্লেখযোগ্য উন্নয়ন ঘটবে বলে আশা করা যায়।
সরাইলের জনসভায় নারীদের নিরাপত্তা প্রসঙ্গে এনসিপি মুখপাত্র কঠোর হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেন। তিনি বলেন, নারীদের ভয় দেখানো বা নিরাপত্তা নিয়ে হুমকি দেওয়ার রাজনীতি নতুন বাংলাদেশে আর চলবে না। ভবিষ্যৎ বাংলাদেশে নারীদের মর্যাদা ও নিরাপত্তার প্রশ্নে কোনো প্রকার আপস করা হবে না।
উক্ত জনসভাগুলোতে সভাপতিত্ব করেন ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা এনসিপির আহ্বায়ক মো. জাহাঙ্গীর আলম ও সরাইল উপজেলা ১১ দলীয় জোটের সভাপতি মো. এনাম খাঁ। এসময় জোটের কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় নেতারা বক্তব্য রাখেন। এর আগে বিভিন্ন এলাকা থেকে নেতাকর্মীরা মিছিল সহকারে সভায় যোগ দেন।


