অন্বেষণ ডেস্ক : সিলেট এমএজি ওসমানী হাসপাতালে অগ্নিকাণ্ড ও ধোঁয়ার কারণে রোগী এবং স্বজনদের মধ্যে শুক্রবার রাতে তীব্র আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। গত ৩০ জানুয়ারি রাত সাড়ে ৮টার দিকে হাসপাতালের মূল ভবনের পঞ্চম তলার ২৩ নম্বর ওয়ার্ডের শিশু সার্জারি বিভাগে এই অনাকাঙ্ক্ষিত দুর্ঘটনাটি ঘটে। খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিস ও হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণ করায় বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতি এড়ানো সম্ভব হয়েছে।
প্রত্যক্ষদর্শী ও হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের দেওয়া তথ্যমতে, ২৩ নম্বর ওয়ার্ডের শৌচাগারের ভেন্টিলেটর দিয়ে কেউ একজন জ্বলন্ত সিগারেটের অংশ বাইরে ফেলে দেন। ভবনের কার্নিশে দীর্ঘদিনের জমে থাকা শুকনো ময়লা ও আবর্জনার ওপর সেটি পড়লে সেখান থেকে আগুনের সূত্রপাত হয় এবং ধীরে ধীরে ধোঁয়া ছড়িয়ে পড়তে থাকে। মুহূর্তের মধ্যেই ধোঁয়া শিশু ওয়ার্ডের আশপাশে গ্রাস করে ফেলে।
ফলে সেখানে চিকিৎসাধীন শিশু রোগী ও তাদের স্বজনদের মধ্যে চরম ভীতি তৈরি হয়। জীবন বাঁচাতে রোগী, স্বজন এবং কর্তব্যরত চিকিৎসকরা দ্রুত সিঁড়ি দিয়ে নিচে নেমে আসেন। এ সময় হাসপাতালের নিচে ও আশপাশের সড়কে ভিড় জমে যায় এবং অনেকেই আতঙ্কে চিৎকার ও ছোটাছুটি শুরু করেন।
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে সাহসিকতার পরিচয় দেন একজন অ্যাম্বুলেন্স চালক। তিনি ফায়ার এক্সটিংগুইশার নিয়ে দ্রুত আগুন নেভানোর চেষ্টা করেন। তবে অগ্নিনির্বাপক যন্ত্রের গ্যাসের ঝাঁঝালো গন্ধে এবং ধোঁয়ার কারণে ওই চালক অসুস্থ হয়ে পড়েন। তার শ্বাসকষ্টজনিত সমস্যা দেখা দিলে তাকে দ্রুত চিকিৎসা দেওয়া হয়।
অগ্নিকাণ্ডের ফলে শিশু সার্জারি ওয়ার্ডের চিকিৎসা কার্যক্রম সাময়িকভাবে বন্ধ হয়ে যায়। খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের দুটি ইউনিট দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে। তবে ফায়ার সার্ভিস পৌঁছানোর আগেই হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ ও স্থানীয়দের সহায়তায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হয়।
সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের উপপরিচালক ডা. মাহবুবুল আলম ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, অসতর্কবশত ফেলা সিগারেটের জ্বলন্ত অংশ থেকেই আগুনের সূত্রপাত হয়েছিল। আমরা তাৎক্ষণিক আগুন নিভিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নিয়ে এসেছি। পরে খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের লোকজনও এসেছিল।
বর্তমানে হাসপাতালের পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে এবং চিকিৎসা সেবা পুনরায় পুরোদমে চালু হয়েছে। এই ঘটনায় ভবনের বা কোনো রোগীর বড় ধরনের কোনো ক্ষতি হয়নি। তবে ভবিষ্যতে যাতে এমন ঘটনার পুনরাবৃত্তি না ঘটে, সে বিষয়ে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ সতর্ক রয়েছে বলে জানানো হয়েছে।


