অন্বেষণ ডেস্ক : পাকিস্তানের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলীয় প্রদেশ বেলুচিস্তানে একযোগে হামলা চালিয়েছে সশস্ত্র সন্ত্রাসীরা। শনিবার (৩১ জানুয়ারি) প্রদেশটির ১২টি স্থানে সংঘটিত এই ভয়াবহ সংঘর্ষে নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্য ও সন্ত্রাসীসহ অন্তত ৪৭ জন নিহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে।
দেশটির সামরিক বাহিনী এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, নিহতদের মধ্যে নিরাপত্তা বাহিনীর ১০ জন সদস্য রয়েছেন যারা দেশের রক্ষায় প্রাণ হারিয়েছেন। অন্যদিকে নিরাপত্তা বাহিনীর ত্বরিত ও পাল্টা অভিযানে ৩৭ জন সন্ত্রাসী নিহত হয়েছে। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে পুরো এলাকায় বর্তমানে থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে।
পাকিস্তানের শীর্ষস্থানীয় সংবাদমাধ্যম দ্য ডন তাদের এক প্রতিবেদনে নিরাপত্তা বাহিনীর সূত্রের বরাতে জানিয়েছে, এই হামলার নেপথ্যে ‘ফিতনা আল হিন্দুস্তান’ নামক একটি গোষ্ঠীর হাত রয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। সূত্রটির দাবি, সন্ত্রাসীরা বড় ধরনের নাশকতার পরিকল্পনা করেছিল, কিন্তু সময়োপযোগী পদক্ষেপের কারণে তাদের সেই চেষ্টা ব্যর্থ করে দেওয়া হয়েছে।
রেডিও পাকিস্তানের তথ্যমতে, প্রদেশের বিভিন্ন স্থানে সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে নিরাপত্তা বাহিনীর অভিযান এখনও অব্যাহত রয়েছে। ফলে হতাহতের সংখ্যা আরও বাড়ার আশঙ্কা করা হচ্ছে। প্রশাসনের পক্ষ থেকে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে এবং স্পর্শকাতর এলাকাগুলোতে নজরদারি বাড়ানো হয়েছে।
অন্যদিকে হামলার পরপরই কুয়েটা, সিবি এবং চামান এলাকায় ইন্টারনেট সেবা পুরোপুরি বন্ধ করে দিয়েছে কর্তৃপক্ষ। তবে মোবাইল ফোন সেবা সচল রয়েছে বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে। যোগাযোগ ব্যবস্থা আংশিক বিচ্ছিন্ন থাকায় সাধারণ মানুষ সাময়িক ভোগান্তিতে পড়েছেন এবং তথ্যের প্রবাহে বিঘ্ন ঘটছে।
নিরাপত্তা বাহিনীর আরেকটি সূত্র নিশ্চিত করেছে যে, গত ৪৮ ঘণ্টায় প্রদেশটিতে মোট ৮৮ জন সন্ত্রাসী নিহত হয়েছে। এর আগে বৃহস্পতিবার হারনাই ও পাঞ্জগুর জেলায় গোপন তথ্যের ভিত্তিতে চালানো বিশেষ অভিযানে ৪১ জন সন্ত্রাসী প্রাণ হারায়। ধারাবাহিক এসব অভিযানের ফলে সন্ত্রাসীরা কোণঠাসা হয়ে পড়েছে বলে দাবি করা হচ্ছে।
বেলুচিস্তানের মুখ্যমন্ত্রীর বিশেষ সহকারী রিন্দ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে লিখেছেন, গত দুই দিনের সফল অভিযানের প্রতিক্রিয়ায় সন্ত্রাসীরা মরিয়া হয়ে এই হামলা চালিয়েছে। তবে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী অত্যন্ত সতর্ক অবস্থানে রয়েছে এবং সন্ত্রাসীদের যেকোনো অপতৎপরতা রুখে দিতে প্রস্তুত।
প্রাদেশিক পরিকল্পনামন্ত্রী মীর জহুর আহমেদ বুলেদি সরকারি সম্পদের ক্ষতি এবং জনমনে আতঙ্ক সৃষ্টির তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন। তিনি উল্লেখ করেন, অপরাধীরা সহিংসতা ছড়িয়ে প্রদেশটিকে জিম্মি করতে পারবে না। জনগণের পূর্ণ সমর্থনে সব ধরনের ষড়যন্ত্র ব্যর্থ করে দেওয়া হবে বলে তিনি দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।


