দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিতে মোংলা সমুদ্রবন্দরকে আরও কার্যকর ভূমিকা রাখতে প্রস্তুত করা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন নৌপরিবহনমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম। বিদ্যমান সক্ষমতা ও সুযোগ-সুবিধার সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করে বন্দরটিকে গতিশীল, আধুনিক ও ব্যবসায়ী-বান্ধব হিসেবে গড়ে তোলার উদ্যোগ নিয়েছে সরকার।
নতুন মন্ত্রিসভা গঠনের পর শনিবার (২১ ফেব্রুয়ারি) প্রথমবারের মতো মোংলা সমুদ্রবন্দর পরিদর্শনে এসে এসব কথা বলেন মন্ত্রী।
পরিদর্শনকালে তিনি বলেন, মোংলা বন্দরের পর্যাপ্ত সক্ষমতা রয়েছে। সঠিক পরিকল্পনা ও আধুনিকায়নের মাধ্যমে এই বন্দরকে দেশের অর্থনৈতিক চালিকাশক্তিতে রূপান্তর করা সম্ভব। বন্দরের গতি বাড়ানো গেলে এবং ব্যবসায়ীদের জন্য প্রয়োজনীয় সুবিধা নিশ্চিত করা গেলে এখানে পণ্য আমদানি-রফতানিতে তাদের আগ্রহ বাড়বে।
মন্ত্রী আরও জানান, অন্য বন্দরের তুলনায় মোংলা বন্দরে ব্যবসায়ীদের জন্য অবকাঠামোগত সুবিধা রয়েছে। পণ্য পরিবহনে নৌপথ, সড়কপথ ও রেলপথের সংযোগ থাকায় এই বন্দর ব্যবহারে সময় ও ব্যয়—দু’টিই কমানো সম্ভব।
চট্টগ্রাম বন্দরের তুলনায় ঢাকার সঙ্গে মোংলা বন্দরের দূরত্ব কম হওয়ায় তৈরি পোশাকসহ বিভিন্ন রফতানি পণ্য এ বন্দর দিয়ে পাঠানোর যথেষ্ট সম্ভাবনা রয়েছে বলেও উল্লেখ করেন তিনি। এতে ব্যবসায়ীরা সরাসরি লাভবান হবেন বলে আশাবাদ প্রকাশ করেন মন্ত্রী।
পরিদর্শনকালে বন্দরের সভাকক্ষে এক মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়। সেখানে বন্দরের আমদানি-রফতানি কার্যক্রম জোরদার, চলমান ও নতুন প্রকল্প, অবকাঠামো উন্নয়ন এবং ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নিয়ে আলোচনা হয়।
সভায় নৌপরিবহনমন্ত্রীর সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী শেখ ফরিদুল ইসলাম, নৌপরিবহন সচিব ড. নুরুন্নাহার চৌধুরী, মোংলা বন্দর কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান রিয়ার অ্যাডমিরাল শাহিন রহমানসহ বন্দর, সড়ক ও রেলপথ বিভাগের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।
এ সময় বন্দরের ট্রাফিক ম্যানেজার মো. মোস্তফা কামাল জেটি বর্ধিতকরণ, নতুন ইয়ার্ড নির্মাণ, স্থাপনা উন্নয়ন এবং গাড়ি পার্কিং এরিয়া সম্প্রসারণসহ বিভিন্ন উন্নয়ন প্রস্তাব উপস্থাপন করেন।


