বিএনপি সরকার গণভোটের ম্যান্ডেট ভুলে গেলে তা স্বৈরাচারের দিকে অগ্রসর হওয়ার ইঙ্গিত হতে পারে, এমন মন্তব্য করেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) উত্তরাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক সারজিস আলম।
মঙ্গলবার (১৭ মার্চ) দুপুরে ঠাকুরগাঁওয়ের বালিয়াডাঙ্গী উপজেলার সমিরউদ্দীন স্মৃতি মহাবিদ্যালয়ের হলরুমে আয়োজিত এক কর্মী সভা শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এ কথা বলেন।
সারজিস আলমের দাবি, সাম্প্রতিক গণভোটে প্রায় ৭০ শতাংশ মানুষ ‘জুলাই সনদ’ বাস্তবায়নের পক্ষে মত দিয়েছে। তাঁর ভাষ্য, “এটা কোনো একক রাজনৈতিক দলের এজেন্ডা নয়, বরং পুরো দেশের মানুষের প্রত্যাশা।” তিনি বলেন, জনগণের এই স্পষ্ট মতামতকে গুরুত্ব না দিলে তা গণতান্ত্রিক চেতনার পরিপন্থী হবে।
সংবিধান ও রাষ্ট্র পরিচালনা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, দেশের সর্বোচ্চ ক্ষমতার উৎস জনগণ। তাই জনগণের দেওয়া ম্যান্ডেটের বাইরে গিয়ে সিদ্ধান্ত নিলে তা প্রশ্নের মুখে পড়বে। তিনি আরও বলেন, “যদি কেউ সংবিধানের দোহাই দিয়ে জনগণের প্রত্যাশা পাশ কাটাতে চায়, তাহলে সেটি ক্ষমতা কুক্ষিগত করার চেষ্টা হিসেবে দেখা হবে।”
আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেন তিনি। তাঁর অভিযোগ, দেশে অপরাধের ঘটনা বাড়লেও কার্যকর ব্যবস্থা চোখে পড়ছে না। এতে সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা নিয়ে শঙ্কা তৈরি হচ্ছে বলে মন্তব্য করেন তিনি।
স্থানীয় সরকার ব্যবস্থায় প্রশাসক নিয়োগের বিষয়েও সমালোচনা করেন সারজিস আলম। তাঁর দাবি, পরাজিত বা বঞ্চিত দলীয় নেতাকর্মীদের পুনর্বাসনের জন্য প্রশাসক নিয়োগ দেওয়া হচ্ছে, যা ভবিষ্যতে ক্ষমতা কেন্দ্রীভূত করার একটি উপায় হয়ে উঠতে পারে।
তিনি বলেন, “নির্বাচিত প্রতিনিধিদের পরিবর্তে প্রশাসক বসিয়ে যদি ক্ষমতা নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করা হয়, তাহলে তা স্বৈরাচারের দিকেই ইঙ্গিত করে।” একই সঙ্গে তিনি সতর্ক করে দেন, বাংলাদেশের মানুষ অতীতে যেমন স্বৈরাচার মেনে নেয়নি, ভবিষ্যতেও তা মেনে নেবে না।


