অন্বেষণ ডেস্ক : পবিত্র ঈদুল ফিতর মুসলমানদের জীবনের অন্যতম প্রধান একটি ধর্মীয় উৎসব। আজ বুধবার ১৪৪৭ হিজরি সনের শাওয়াল মাসের চাঁদ দেখা না যাওয়ায় আগামী শুক্রবার সৌদি আরবে পবিত্র ঈদুল ফিতর উদ্যাপিত হবে। ফলে দেশটিতে এবার রমজান মাস সম্পূর্ণ ৩০ দিনে পূর্ণ হতে যাচ্ছে।
দীর্ঘ এক মাস কঠোর সিয়াম সাধনার পর শাওয়াল মাসের প্রথম দিনে বিশ্বজুড়ে মুসলমানরা অত্যন্ত আনন্দ উদ্দীপনার মধ্য দিয়ে এই উৎসব পালন করে থাকেন। ইসলামি শরিয়ত ও হিজরি বর্ষপঞ্জি অনুযায়ী, কেবল মাত্র চাঁদ দেখার ওপর নির্ভর করে আরবি মাসগুলো ২৯ অথবা ৩০ দিনের হয়ে থাকে।
যদি ২৯ রমজানের দিন সন্ধ্যায় আকাশে নতুন চাঁদ দেখা যায়, তবে তার পরের দিনই ঈদুল ফিতর উদ্যাপিত হয়। আর যদি কোনো কারণে চাঁদ দৃষ্টিগোচর না হয়, তবে নিয়মানুযায়ী ৩০ রমজান শেষে পবিত্র ঈদ উদ্যাপন করার বিধান রয়েছে। এবার সৌদি আরবে ঠিক এমনটাই ঘটতে যাচ্ছে।
এই উৎসবের তারিখ নির্ধারণে দেশগুলোর ভৌগোলিক অবস্থানের একটি বড় প্রভাব রয়েছে। সাধারণত মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোতে ঈদ পালনের ঠিক একদিন পর বাংলাদেশে পবিত্র ঈদুল ফিতর উদ্যাপিত হয়ে থাকে। সেই ধারাবাহিকতায় আগামীকাল বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় ইসলামিক ফাউন্ডেশনের সভাকক্ষে বাংলাদেশের জাতীয় চাঁদ দেখা কমিটির একটি গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে।
ওই বৈঠকের মাধ্যমেই মূলত বাংলাদেশের আকাশে শাওয়াল মাসের চাঁদ দেখার বিষয়টি চূড়ান্তভাবে নিশ্চিত করা হবে। দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে প্রাপ্ত তথ্যের ভিত্তিতে কমিটি আনুষ্ঠানিকভাবে ঈদের দিনক্ষণ ঘোষণা করবে। এর মাধ্যমেই দেশের ধর্মপ্রাণ মুসলমানদের অপেক্ষার চূড়ান্ত অবসান ঘটবে বলে আশা করা হচ্ছে।
অন্যদিকে, আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম গালফ নিউজের এক বিশেষ প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, তুরস্ক ও সিঙ্গাপুরের মতো কিছু দেশ সরাসরি চাঁদ দেখার ওপর নির্ভর না করে জ্যোতির্বিজ্ঞানের নিখুঁত হিসাবের আলোকে ইসলামি মাস নির্ধারণ করে থাকে। এই আধুনিক পদ্ধতির ভিত্তিতেই তারা ইতিমধ্যেই পবিত্র ঈদুল ফিতরের তারিখ আগাম ঘোষণা করে দিয়েছে।
সেই জ্যোতির্বিজ্ঞানের হিসাব অনুযায়ী, ইউরোপ ও এশিয়ার সংযোগস্থলে অবস্থিত তুরস্ক আগামী শুক্রবার অত্যন্ত জাঁকজমকপূর্ণভাবে ঈদুল ফিতর উদ্যাপন করবে। অপরদিকে, এশিয়ার অন্যতম উন্নত রাষ্ট্র সিঙ্গাপুরে ঈদ উদ্যাপন করা হবে আগামী শনিবার। এই দেশগুলোতে বসবাসরত মুসলমানরা সে অনুযায়ী নিজেদের প্রস্তুতি নিচ্ছেন।
এদিকে, বিশ্বের অন্যান্য প্রান্তের চেয়ে মধ্যপ্রাচ্যের বর্তমান রাজনৈতিক ও সামরিক পরিস্থিতি বেশ উত্তপ্ত। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে ইরানের চলমান যুদ্ধের কারণে ওই অঞ্চলের বেশ কয়েকটি দেশে এক ধরনের থমথমে অবস্থা বিরাজ করছে। এর সরাসরি প্রভাব পড়তে শুরু করেছে সাধারণ মানুষের স্বাভাবিক জীবনযাত্রা ও ধর্মীয় উৎসব পালনের ওপর।
উল্লেখ্য যে, এই যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে সৃষ্ট সম্ভাব্য নিরাপত্তা ঝুঁকি এড়াতে সংযুক্ত আরব আমিরাত ও কাতার সরকার এবার বেশ কিছু সতর্কতামূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে। যেকোনো ধরনের অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা এড়াতে এবং মুসল্লিদের নিরাপত্তা নিশ্চিতে এই দুই দেশে এবার উন্মুক্ত স্থানে বা বড় ঈদগাহে ঈদুল ফিতরের জামাত অনুষ্ঠিত হচ্ছে না।
প্রশাসনের কড়া নির্দেশনায় জানানো হয়েছে, এবারের ঈদের জামাত শুধুমাত্র নির্ধারিত স্থানীয় মসজিদগুলোর ভেতরেই কঠোর নিরাপত্তার মধ্য দিয়ে আদায় করা হবে। উৎসবের আনন্দ ভাগাভাগি করার পাশাপাশি নাগরিকদের জীবনের সর্বোচ্চ সুরক্ষাকেই এবার এসব দেশের প্রশাসন সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব প্রদান করেছে।


