বগুড়ার শেরপুরে জমি সংক্রান্ত বিরোধের জেরে দুই পক্ষের মধ্যে এক রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে ৪ জন গুরুতর আহতসহ উভয় পক্ষের মহিলা সহ অন্তত ১১ জন আহত হয়েছেন।
শনিবার (২৮ মার্চ) বেলা সাড়ে ৩টার দিকে উপজেলার গাড়ীদহ ইউনিয়নের ফুলবাড়ি বাজার পাড়া এলাকায় এই ঘটনা ঘটে। আহতরা বর্তমানে শেরপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ফুলবাড়ি বাজার এলাকার খলিলুর রহমানের সাথে একই গ্রামের গোলাম হোসেন গংদের জমি নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছিল। কয়েকদিন আগে খলিলুর রহমান তার দাবি করা জায়গায় কিছু ডাব গাছ লাগান। শনিবার বিকেলে ওই গ্রামের গোলাম হোসেন, স্বপন, রিফাত, ওবায়দুল, ফারদিন ও ইউসুফসহ কয়েকজন কোদাল, দা, লোহার রড ও লাঠিসোটা নিয়ে ওই গাছগুলো কেটে ফেলেন।
এ সময় খলিলুরের মেয়ে জান্নাতি (২৬) বাধা দিলে তাকে মারধর করা হয়। এ সময় খলিল, স্ত্রী জোৎস্না বেগম (৪৫), ছেলে জাকারিয়া (২৪) ও আব্দুল্লাহ (২১) এগিয়ে এলে তাদেরকেও পিটিয়ে জখম করা হয়। এক পর্যায়ে উভয় পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ বেধে যায়।
ভুক্তভোগী খলিলুর রহমান জানান, প্রায় ৪ মাস আগে আমার স্ত্রীর পৈত্রিক সম্পত্তি আমাকে স্থানীয়ভাবে বুঝিয়ে দেওয়া হয়েছিল। সেই জমিতে আমি ডাবগাছ লাগালে তারা দলবল নিয়ে আমার পরিবারের ওপর এই হামলা চালিয়েছে।
অন্যদিকে, প্রতিপক্ষের গোলাম হোসেন অভিযোগ করে বলেন, আমার জায়গায় অবৈধভাবে গাছ লাগানো হয়েছিল। আমি সেই গাছ কাটতে গেলে তারাই আমাদের ওপর হামলা চালিয়ে মারপিট করেছে।
এ বিষয়ে শেরপুর থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) জয়নুল আবেদীন জানান, ৪-৫ মাস আগে এই জমি নিয়ে থানায় একটি অভিযোগ হয়েছিল। তখন পুলিশ ঘটনাস্থলে গেলে পরবর্তীতে বিষয়টি আপোশ নিষ্পত্তি হয়। কিন্তু সেই মীমাংসার কোনো লিখিত দলিল বা চুক্তি না থাকায় আজ পুনরায় এই সংঘর্ষের সূত্রপাত হয়েছে। তিনি আরও জানান, আজকের ঘটনায় এখনো কোনো পক্ষ লিখিত অভিযোগ দেয়নি। অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।


