অন্বেষণ ডেস্ক : দেশে হাম ও হামের উপসর্গ নিয়ে গত ২৪ ঘণ্টায় আরও ৭ শিশুর মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে এবং নতুন করে আক্রান্ত হয়েছে প্রায় ১ হাজার ৫১৮ জন শিশু। বৃহস্পতিবার (১৪ মে) বিকেলে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পক্ষ থেকে দেওয়া সর্বশেষ হালনাগাদ প্রতিবেদনে এই উদ্বেগজনক তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে। এই পরিসংখ্যান দেশের সার্বিক জনস্বাস্থ্য পরিস্থিতির জন্য একটি বড় চিন্তার বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের ওই সংবাদ বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, বুধবার সকাল ৮টা থেকে বৃহস্পতিবার সকাল ৮টা পর্যন্ত এই প্রাণহানির ঘটনা ঘটে। মারা যাওয়া শিশুদের মধ্যে ছয়জন হামের উপসর্গ নিয়ে মারা গেছে। অন্যদিকে, একজন নিশ্চিতভাবে এই ভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে প্রাণ হারিয়েছে। চিকিৎসকরা পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছেন।
উল্লেখ্য যে, গত ১৫ মার্চ থেকে দেশে হামের এই প্রাদুর্ভাব মারাত্মক আকার ধারণ করেছে। সরকারি হিসাব মতে, এই নির্দিষ্ট সময়সীমায় সারা দেশে হামের উপসর্গ নিয়ে মোট ৩৬৯টি শিশুর মৃত্যু হয়েছে।
অন্যদিকে, নিশ্চিতভাবে হামে আক্রান্ত হয়ে প্রাণ হারিয়েছে আরও ৭০টি শিশু। অর্থাৎ, সব মিলিয়ে গত কয়েক মাসে দেশে হাম ও হামের উপসর্গ নিয়ে মোট ৪৩৯টি শিশুর মৃত্যু হলো। এ অবস্থায় দেশের বিভিন্ন সরকারি ও বেসরকারি হাসপাতালগুলোতে রোগীর চাপ সামলাতে চিকিৎসকদের রীতিমতো হিমশিম খেতে হচ্ছে।
তবে শুধু মৃত্যুই নয়, নতুন করে আক্রান্তের সংখ্যাও রীতিমতো ভয়ংকর। গত ২৪ ঘণ্টায় দেশে নতুন করে ১৫৫টি শিশু নিশ্চিতভাবে হামে আক্রান্ত হয়েছে। একই সময়ে হামের উপসর্গ নিয়ে চিকিৎসা নিতে এসেছে আরও ১ হাজার ৩৬৩ জন শিশু। যা জনমনে নতুন করে আতঙ্ক তৈরি করেছে।
ফলে এই একদিনেই দেশের বিভিন্ন স্বাস্থ্যকেন্দ্রে ১ হাজার ১০৬টি শিশু নতুন করে ভর্তি হতে বাধ্য হয়েছে। অন্যদিকে, স্বস্তির খবর হলো, পর্যাপ্ত চিকিৎসা শেষে সম্পূর্ণ সুস্থ হয়ে হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র পেয়েছে ১ হাজার ১৩৬টি শিশু। তারা বর্তমানে ঝুঁকিমুক্ত বলে জানিয়েছেন চিকিৎসকরা।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের বিস্তারিত তথ্যমতে, গত ১৫ মার্চ থেকে আজ পর্যন্ত দেশে মোট সন্দেহজনক হাম রোগীর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৫৪ হাজার ৪১৯ জনে। এর পাশাপাশি, ল্যাব টেস্টের মাধ্যমে নিশ্চিতভাবে হামে আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা ৭ হাজার ৩০৫ জন বলে শনাক্ত করা হয়েছে।
এই সার্বিক পরিস্থিতিতে হাসপাতালগুলোতে ভর্তি হওয়া মোট রোগীর সংখ্যা ৩৯ হাজার ১৬০ জনে পৌঁছেছে। এর মধ্যে অবশ্য উন্নত চিকিৎসা শেষে সম্পূর্ণ সুস্থ হয়ে ৩৪ হাজার ৯৬৮ জন রোগী ইতোমধ্যে ছাড়পত্র পেয়ে নিজেদের বাড়িতে ফিরে গেছে। হাসপাতালগুলোতে এখনও প্রচুর রোগী চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মতে, এই ধরনের প্রাণঘাতী সংক্রমণ রোধে শিশুদের সঠিক নিয়মে ও সময়ে হামের টিকা দেওয়ার কোনো বিকল্প নেই। এছাড়া, শিশুদের শরীরে জ্বর, সর্দি বা র্যাশের মতো কোনো ধরনের অস্বাভাবিক উপসর্গ দেখা দিলে কালক্ষেপণ না করে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে বলা হয়েছে।
চিকিৎসকরা আরও জানান, সঠিক সময়ে চিকিৎসা শুরু করতে পারলে এই রোগে প্রাণহানির ঝুঁকি অনেকাংশে কমানো সম্ভব। তাই দেশের সব অভিভাবককে এই বিষয়ে আরও বেশি সচেতন ও সতর্ক হওয়ার জন্য বিশেষভাবে আহ্বান জানিয়েছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর।


